আরাত্রিকা–আর্য কি কখনও সত্যিই একে অপরের কাছের ছিলেন??
মধ্যরাতের চলন্ত বাসে কেক কাটা, পরদিন মন্দারমণির সমুদ্রতটে বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা—জন্মদিনটা একেবারে নিজের মতো করেই উপভোগ করেছেন আরাত্রিকা মাইতি। কিন্তু আনন্দের এই ছবির আড়ালেই টেলিপাড়ায় হঠাৎ জোর গুঞ্জন—ধারাবাহিক ‘জোয়ারভাটা’-র নায়ক আর্য দাশগুপ্তের সঙ্গে নাকি তাঁর সম্পর্ক ভেঙেছে! জন্মদিনের শুভেচ্ছা না থাকা, সমাজমাধ্যমে একে অন্যকে আনফলো করা—সব মিলিয়ে নেটিজেনদের একাংশের মনে প্রশ্ন, তবে কি পুরনো প্রেমে সত্যিই ‘কাঁটা’ ঢুকেছে?
গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত পর্দার রসায়ন থেকেই। ‘জোয়ারভাটা’-য় আরাত্রিকা ও আর্যের জুটি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সেই রসায়ন থেকেই বাস্তবের প্রেমের গল্প তৈরি হয়েছে—এমনটাই দাবি অনেকে। শোনা যাচ্ছে, বিচ্ছেদের কারণেই নাকি আর্য জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাননি। আবার কেউ বলছেন, দু’জনেই নাকি সমাজমাধ্যম থেকে একসঙ্গে থাকা ছবিও সরিয়ে ফেলেছেন।
তবে এই সব জল্পনার মাঝেই আরাত্রিকার অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি সাফ জানালেন, “কারও সঙ্গেই কোনও দিন কিছুই ছিল না। এখনও নেই। আমার জীবনে এখন একটাই অগ্রাধিকার—কাজ আর কেরিয়ার। পায়ের নীচের মাটি শক্ত করাই লক্ষ্য। তার আগে প্রেম, সম্পর্ক, বিয়ে বা বিচ্ছেদ—এই সব নিয়ে ভাবার সময়ই নেই।”
বরং জন্মদিনের উদ্যাপন নিয়েই উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, এ রকম ভাবে আগে কখনও জন্মদিন পালন হয়নি। রাতের রাস্তায় চলন্ত বাসে কেক কাটা, পরদিন সমুদ্রের ধারে বন্ধুদের সঙ্গে মাছ-মাংস থেকে শুরু করে আমিষ-নিরামিষ—সব মিলিয়ে খোলামেলা আনন্দ। “এই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি বলেই এমন মানুষ, এমন মুহূর্ত পেয়েছি। তাই বাইরে কোনও সম্পর্কের গল্প টেনে এনে আনন্দ নষ্ট করতে চাই না,” বললেন তিনি।
আর্য দাশগুপ্তও অবশ্য সম্পর্কের জল্পনা মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “আমরা বরাবরই ভাল বন্ধু। কাজের চাপে নিয়মিত কথা হয় না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একজন অভিনেতার প্রথম দায়িত্ব নিজের পেশাজীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।” অর্থাৎ, তাঁর কথাতেও প্রেমের ইঙ্গিত নেই।
তবে টেলিপাড়ার কানাঘুষো এখানেই থামে না। কেউ কেউ বলছেন, আর্য নাকি মনে মনে কষ্ট পেয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন—যদি সত্যিই কিছু না থাকে, তবে এই দূরত্ব কেন? যদিও এই দাবি কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।
এই মুহূর্তে আরাত্রিকার সামনে বড় দিন। বড়দিনেই তিনি বড়পর্দায় পা রাখতে চলেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির মাধ্যমে। সেখানে তিনি ‘লক্ষ্মীপ্রিয়া’র চরিত্রে। নতুন কাজ, নতুন চ্যালেঞ্জ—এই সবের মাঝেই সম্পর্কের গুঞ্জনকে পাত্তা দিতে নারাজ অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে, জন্মদিনের আনন্দের মাঝেও যে গল্পটা সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠছে, তা হল—আরাত্রিকা নিজের জীবনটা নিজের শর্তেই বাঁচতে চান। প্রেমের গুঞ্জন থাকুক কানাঘুষোতেই, বাস্তবে তাঁর ফোকাস এখন শুধুই নিজের পথচলায়।