বেআইনি বাজির রমরমা
সারা বছর অপেক্ষার পর অবশেষে কালীপুজোর সময় বৈধ বাজি বাজার শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় সেটি থমকে গেছে। কলকাতা শহরের বিভিন্ন স্থানে যেখানে বৈধ বাজি বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে এখনও কোনো বাজার গড়ে ওঠেনি। এর ফলে বেআইনি বাজির বিক্রি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শহিদ মিনার ময়দানসহ অন্যান্য স্থানে বাজির স্টলগুলো তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু একাধিক কারণে সেগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি। পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অনেক জায়গায় স্টলের ছাউনি খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগও উঠেছে। জমি মালিক, পুরসভা এবং পুলিশের অনুমোদনও অনেক জায়গাতেই আসেনি। ফলে উদ্বোধনের দিন পেরিয়ে গেলেও বৈধ বাজি বাজারের কার্যক্রম শুরু হয়নি। পুলিশ内部ে আশঙ্কা রয়েছে, বৈধ বাজারে বিলম্বের ফলে বেআইনি বাজির বিক্রি বাড়তে পারে।
এবার বাজির শব্দ মাত্রা ৯০ ডেসিবেল থেকে বাড়িয়ে ১২৫ ডেসিবেলে উন্নীত করা হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের বাজির বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীপুজোর রাতে মাত্র দুটি ঘণ্টা— রাত ৮টা থেকে ১০টা— বাজি ফাটানোর অনুমতি রয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই বাজির শব্দ শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে পারে বলে অনেকের ধারণা।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিলেন, চলতি মাসের ২৬ তারিখ থেকে আগামী মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত শহরে বৈধ বাজি বাজার বসবে। এদিকে, গত ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে সব স্টলের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার পর্যন্ত এইসব বাজারের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
দক্ষিণ কলকাতায় বেহালায় বাজি বাজার বসার কথা থাকলেও, সেখানে বাজি বিক্রি শুরু হয়নি। বেহালা বাজি বাজারের সম্পাদক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মাঠের অবস্থা খুব খারাপ। জল জমে থাকায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দেরি হচ্ছে, তবে সোমবার থেকে বাজার চালুর চেষ্টা হবে। একইভাবে, বড় বাজার ফায়ারওয়ার্কস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ শান্তনু দত্তও জানিয়েছেন, জমি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবারই সমস্যা হয়ে থাকে, কিন্তু তারা দ্রুত বাজার শুরু করার চেষ্টা করছেন।
টালা বাজি বাজারের উদ্যোক্তা শুভঙ্কর মান্না জানিয়েছেন, নিরি (ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট) এর অ্যাপ আপডেট না হওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। ফলে এই বছরের বাজির যোগান যথাযথভাবে আসছে না। অনেক সংস্থা গত বছরের ধরপাকড়ের কারণে বাংলা বাজারে বাজি পাঠাতে আগ্রহী নয়। ফলে নকল বাজির আতঙ্কও রয়েছে।
পুলিশের একাংশের দাবি, শহরের নুঙ্গি, মহেশতলা, বজবজ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি বাজির উৎপাদন চলছে। এতে করে শহরের বাজারে নকল বাজি বিক্রির আশঙ্কা প্রবল। কালিকাপুর বাজি বাজারের উদ্যোক্তা শ্যামাপ্রসাদ মজুমদার জানিয়েছেন, তারা শুধুমাত্র সবুজ বাজি বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন, কিন্তু স্টলের মধ্যে স্থান সংকুলানের সমস্যা রয়েছে।
এভাবে দেখা যাচ্ছে, বৈধ বাজি বাজার শুরু না হওয়ায় বেআইনি বাজির রমরমা বাড়তে পারে, যা সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকারের উচিত, দ্রুত কার্যক্রমের ওপর নজর দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধ বাজি বাজার শুরু করা, যাতে মানুষের নিরাপত্তা ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো যায়।