চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তফাত গড়ে দিতে পারেন আল আরবির বিদেশিরাই!
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার সামনে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার যুবভারতীতে কুয়েতের আল আরবি এসসির বিরুদ্ধে খেলতে নামবে লাল-হলুদ। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দু’দলের বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যার পার্থক্য। ইস্টবেঙ্গলের হাতে থাকছেন মাত্র দু’জন বিদেশি। সেখানে আল আরবি নামবে ছয় বিদেশিকে নিয়ে।
আল আরবির কোচ গোরান সাবলিচ ইতিমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রবিবার যুবভারতীতে অনুশীলনে দুই প্রান্ত ধরে আক্রমণ গড়ে তোলার উপর জোর দিতে দেখা যায় তাঁকে। গতি এবং দ্রুত পাসের সমন্বয়ে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে চাপে ফেলাই তাঁদের লক্ষ্য। ফলে প্রতিপক্ষের বিদেশি ফুটবলারদের সামলানোই হাবাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি-সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। স্পেনের ডিফেন্ডার নাচো এখনও মাঠে নামার মতো অবস্থায় রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। নাইজিরিয়ার স্ট্রাইকার এনসুংগুসি এফিয়ং এখনও দলে যোগ দেননি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস ইকোনোমিডিসও পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছননি। ষষ্ঠ বিদেশির সইও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ফলে বুধবারের ম্যাচে দানি রামিরেস এবং মহম্মদ রশিদ—এই দুই বিদেশিকেই ভরসা করতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে।
ছয় বিদেশি নিয়েই নামছে আল আরবি
অন্য দিকে আল আরবির ছয় বিদেশিই কলকাতায় এসেছেন এবং প্রত্যেকেই বুধবার মাঠে নামবেন বলে জানা যাচ্ছে। দলে রয়েছেন ব্রাজ়িলের লুকাস সালন ও লিয়োনার্দো শেলডন, নাইজিরিয়ার আনায়ো ইউয়ালা, প্যালেস্টাইনের জ়াইদ কুনবার, সেনেগালের জোহর রাসোউল এবং ইথিয়োপিয়ার কানান মার্কনে।
এই ছয় বিদেশিকে কী ভাবে সামলানো যায়, সেটাই এখন হাবাসের বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে চাপ বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রক্ষণে আনোয়ার আলির সঙ্গে সন্দীপ মাণ্ডিকে খেলানো হতে পারে। কারণ, লালচুংনুঙ্গা এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। গত বার এফসি চ্যালেঞ্জ লিগে আর্কাদাগ এফসির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বে লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ আরও চাপে পড়তে পারে।
সেট-পিসেই ভরসা হাবাসের
আল আরবির বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট শুধু রক্ষণ করে যাওয়া সম্ভব নয়—হাবাসও তা জানেন। তাই ম্যাচের আগে সেট-পিসে বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে।
অনুশীলনে জেসিনকে সামনে রেখে ফ্রি-কিক এবং কর্নারের প্রস্তুতি করিয়েছেন হাবাস। বোঝাই যাচ্ছে, প্রতিপক্ষের শক্তিশালী বিদেশি-নির্ভর আক্রমণের মোকাবিলার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই সেট-পিস থেকে গোল তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে লাল-হলুদ শিবিরে।
ছয় বিদেশির আল আরবির বিরুদ্ধে দুই বিদেশি নিয়ে ইস্টবেঙ্গল কতটা লড়াই করতে পারে, তার উত্তর মিলবে বুধবার যুবভারতীতেই। হাবাসের সামনে তাই শুরুতেই বড় পরীক্ষা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।