‘ছবি তুললেই অপরাধ?’ মেসি–বিতর্কে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়

মেসি–বিতর্কে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভশ্রী ! লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে উন্মাদনার মাঝেই আচমকা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের সঙ্গে একটি ছবি— আর…

December 16, 2025
0 min read

মেসি–বিতর্কে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভশ্রী !

লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে উন্মাদনার মাঝেই আচমকা বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের সঙ্গে একটি ছবি— আর তাতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় প্রশ্ন, কটাক্ষ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ। এত দিন নীরব থাকলেও অবশেষে মুখ খুললেন শুভশ্রী। জানালেন, সেই দিনের পুরো ঘটনা, নিজের অবস্থান এবং কেন এই আক্রমণ তাঁকে গভীর ভাবে আহত করেছে।

শুভশ্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মেসির সঙ্গে দেখা করা বা ছবি তোলার বিষয়টি কোনও গোপন আয়োজন ছিল না। তিনি নির্দিষ্ট ভাবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। সেই আমন্ত্রণ অনুযায়ী শনিবার সকালে নির্ধারিত হোটেলে পৌঁছোন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে তিনি সেখানে পৌঁছে যান এবং প্রায় ১০টা থেকে ১০টা পনেরোর মধ্যে প্রথমবার মেসির সঙ্গে দেখা হয়। সেই সময়েই ছবি তোলা হয়।

এর পরেই বিতর্কের আর একটি অধ্যায় শুরু হয়। শুভশ্রী জানান, হোটেল থেকে বেরোনোর সময় মেসির জনসংযোগকারী দলের তরফে তাঁকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। আয়োজকদের বক্তব্য ছিল, মেসিকে ঘিরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কারণে তাঁর উপস্থিতি তাঁদের পক্ষে সুবিধাজনক হবে। সেই অনুরোধেই তিনি মাঠের দিকে রওনা দেন।

তবে এখানেই প্রশ্ন উঠেছে— বাংলা ছবির অভিনেত্রী বলেই কি শুভশ্রী এই বিশেষ সুযোগ পেয়েছেন? তিনি কি শাসক দলের বিধায়কের স্ত্রী বলেই এই আমন্ত্রণ? এই প্রশ্নের উত্তরে শুভশ্রী বলেন, এই বিষয়গুলির ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয়। যাঁরা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তাঁদের জনসংযোগকারী দলই এর উত্তর দিতে পারবে।

সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট হওয়ার সময় নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। শুভশ্রী জানান, মাঠে পৌঁছনোর পরে তিনি নিজেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখেন। মাঠের ভিড়, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার দায় তিনি আয়োজকদের উপরেই দিয়েছেন। পরিস্থিতি খারাপ বুঝে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পরে বানতলায় শুটিংয়ে পৌঁছে জানতে পারেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁর টিমের তরফে সেই ছবিগুলি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হয়ে গিয়েছে। মাঠে জ্যামার থাকার কারণে তখনই পোস্ট করা সম্ভব হয়নি, পরে তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপলোড হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলে শুভশ্রী বলেন, “আমি কি মাঠে ঢুকে কারও সামনে দাঁড়িয়েছিলাম? আমি কি দর্শকদের দেখার পথে বাধা হয়েছিলাম?” তাঁর আক্ষেপ, যেভাবে তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে যেন তিনি মেসির পাশে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অথচ বাস্তবটা তা নয়।

এই বিতর্কে লিঙ্গ ও পেশার প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভশ্রী। তিনি বলেন, “আমি একজন নারী, আমি বাংলা ছবির অভিনেত্রী বলেই কি এত কটাক্ষ?” উদাহরণ টেনে বলেন, বলিউডের তারকারাও তো মেসির সঙ্গে দেখা করেছেন, ছবি তুলেছেন। সেখানে প্রশ্ন উঠছে না কেন? তাঁকে ‘কারও প্রাক্তন প্রেমিকা’ বলে কটাক্ষ করাও যে কতটা অসম্মানজনক, সে কথাও জানান অভিনেত্রী।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে যখন শুভশ্রী বলেন, কটাক্ষের সীমা ছাড়িয়ে হুমকি পর্যন্ত পৌঁছেছে বিষয়টি। তাঁর কথায়, শুরুতে মানুষের আবেগ থেকে আসা রাগ তিনি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর ছোট সন্তানদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া শুরু হয়, তখন আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। “আমি মা। আমার সন্তানদের আঘাত করার হুমকি আমি কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারি না,” স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, মেসি–বিতর্কে শুভশ্রীর বক্তব্য একটাই— ছবি তোলা কোনও অপরাধ নয়। ভুল বোঝাবুঝি ও প্রযুক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে যে ভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে, তা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তাঁর প্রশ্ন, “আমার দোষটা কোথায়?”— সেই প্রশ্নই এখন গোটা বিতর্কের কেন্দ্রে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *