চোখের সাদা অংশ কি শুধু মানুষেরই? নতুন গবেষণায় উঠে এল চোখের ‘ইশারা ভাষা’র রহস্য

চোখের সাদা অংশ কি শুধু মানুষেরই? মানুষের চোখ শুধু দেখার অঙ্গ নয়—অনেক সময় তা হয়ে ওঠে নীরব ভাষার মাধ্যম। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই চোখের ইশারা বা দৃষ্টির দিক বোঝার ক্ষমতা…

March 25, 2026
1 min read

চোখের সাদা অংশ কি শুধু মানুষেরই?

মানুষের চোখ শুধু দেখার অঙ্গ নয়—অনেক সময় তা হয়ে ওঠে নীরব ভাষার মাধ্যম। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই চোখের ইশারা বা দৃষ্টির দিক বোঝার ক্ষমতা কি শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এর পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে চোখের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের—সাদা অংশ বা স্ক্লেরা।

মানুষের চোখে মণির চারপাশে স্পষ্ট সাদা অংশ থাকে, যার ফলে সহজেই বোঝা যায় কেউ কোন দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে—যেমন শিম্পাঞ্জি বা অন্যান্য প্রাইমেট—চোখের চারপাশ তুলনামূলক গাঢ় রঙের হওয়ায় তাদের দৃষ্টির দিক বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই পার্থক্য নিয়েই গবেষণা করেছেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট-এর বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, মানুষের চোখের এই সাদা-কালো বৈপরীত্য বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল, যা মানুষকে সামাজিকভাবে আরও দক্ষ করে তুলেছে।

🧠 “কোঅপারেটিভ আই হাইপোথেসিস”: চোখই কি সহযোগিতার ভাষা?

বিজ্ঞানী মাইকেল টোমাসেলোর নেতৃত্বে তৈরি হওয়া একটি তত্ত্বকে বলা হয় “কোঅপারেটিভ আই হাইপোথেসিস”। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের চোখের গঠন এমনভাবে বিকশিত হয়েছে যাতে অন্যরা সহজেই বুঝতে পারে দৃষ্টি কোন দিকে যাচ্ছে।

এই ক্ষমতা শুধু যোগাযোগ নয়, বরং সহযোগিতা ও সামাজিক সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে। এমনকি শিশুদের শাসন বা নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও চোখের ইশারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

🔬 পরীক্ষা কী বলছে?

গবেষকরা একটি শিশু ও একটি বনমানুষ (এপ)-কে নিয়ে একটি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মাথার ওপর ঘুরতে থাকা একটি ফ্যান দেখানো হয়। দেখা যায়, এপ পুরো মাথা ঘুরিয়ে ফ্যানের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু শিশু শুধু চোখ ঘুরিয়েই সেটি অনুসরণ করছে।

এই পর্যবেক্ষণ থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন—মানুষের চোখের গঠন দৃষ্টিকে আরও সূক্ষ্ম এবং “ইঙ্গিতপূর্ণ” করে তোলে।

পরবর্তীতে প্রায় ১০৮ ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে দেখা যায়, যেসব প্রাণীর চোখে স্পষ্ট সাদা অংশ নেই, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম এবং সংঘাত বেশি দেখা যায়।

অন্যদিকে, যেসব প্রজাতির চোখে কিছুটা হলেও সাদা-কালো বৈপরীত্য রয়েছে—যেমন কিছু শিম্পাঞ্জি ও বোনোবো—তাদের মধ্যে সামাজিক আচরণ তুলনামূলকভাবে বেশি সহযোগিতামূলক।

🧬 তবে কি সব মত এক নয়?

তবে সব বিজ্ঞানী একমত নন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শিম্পাঞ্জিদের চোখও পুরোপুরি গাঢ় নয়; সেখানে কিছুটা সাদা অংশ রয়েছে। গবেষকদের মতে, স্ক্লেরার রঙ নির্ভর করে মেলানিনের পরিমাণের ওপর এবং এটি মূলত জৈবিক পরিবর্তনের ফল।

তাঁরা আরও বলেন, চোখের রঙ সরাসরি সহযোগিতা বা কলহ নির্ধারণ করে—এমন সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়।

🌍 মানুষের চোখই কি আলাদা করে তুলেছে?

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের চোখের এই বৈপরীত্যই তাকে অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা করেছে। এটি শুধু যোগাযোগ নয়, বরং সমাজ গঠন, সহযোগিতা এবং সভ্যতা গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তাঁদের মতে, চোখের মাধ্যমে আমরা শুধু দেখি না—অন্যের মনোভাবও “পড়ে” ফেলি। আর এই অদৃশ্য যোগাযোগই মানুষকে সামাজিক প্রাণী হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, চোখের সাদা অংশ নিয়ে এই গবেষণা নতুন করে ভাবাচ্ছে—মানুষের সভ্যতার অনেক গভীরে হয়তো লুকিয়ে আছে এক জোড়া সাধারণ চোখের অদ্ভুত শক্তি।

মুক্তির আগেই বিপত্তি: ‘ধুরন্ধর ২’ প্রদর্শনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন Aditya Dhar

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *