চিনি মহার্ঘ!
উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগেই চিনির দামে বড়সড় উল্লম্ফন। খুচরো বাজারে কেজিপ্রতি চিনি ৫০ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। কোথাও কোথাও দাম আরও বেশি। ফলে আগামী কয়েক মাসে রসগোল্লা, সন্দেশ, কালাকাঁদ-সহ বিভিন্ন মিষ্টির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন হঠাৎ বাড়ছে চিনির দাম?
মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজারে অগস্টের প্রথম ১৫ দিনেই চিনির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ১০০ কেজি চিনির দাম পৌঁছেছে প্রায় ৫,৩৫০ টাকায়। কলকাতায় খুচরো বাজারে কেজিপ্রতি দাম প্রায় ৬০ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পঞ্জাবে তা ৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতির পিছনে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের ব্যবহার বৃদ্ধি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কেন্দ্রের E20 জ্বালানি নীতির ফলে আখের একটি বড় অংশ চিনি উৎপাদনের পরিবর্তে ইথানল তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
E20 পেট্রল কী ভাবে চিনির বাজারে প্রভাব ফেলছে?
আখ থেকে একই সঙ্গে চিনি ও ইথানল তৈরি করা যায়। ফলে আখের ব্যবহার কোন দিকে বেশি হচ্ছে, তার উপর চিনির সরবরাহও নির্ভর করে। ইথানলের চাহিদা বাড়লে চিনিকলগুলির কাছে আখের প্রাপ্যতা কমতে পারে। আর সরবরাহ কমে গেলে বাজারে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
তবে শুধু E20-কে দায়ী করলেই পুরো ছবিটা ধরা পড়ে না। গত অর্থবর্ষে আখের ফলন কম হওয়া, উৎসবের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, মজুতদারি এবং বাজারে জল্পনাও দামের উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন।
সরকার কী করছে?
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্র ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে রফতানির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে উৎসবের আগে দেশীয় বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
| বিষয় | পরিস্থিতি |
|---|---|
| কলকাতায় চিনির দাম | প্রায় ₹৬০/কেজি |
| কোলহাপুর পাইকারি বাজার | প্রায় ₹৫,৩৫০/১০০ কেজি |
| অতিরিক্ত চাহিদা | উৎসবের মরসুমে বাড়ার সম্ভাবনা |
| সরকারি পদক্ষেপ | ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত আমদানি |
| সম্ভাব্য প্রভাব | মিষ্টির উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে |
রসগোল্লা-সন্দেশ কি সত্যিই মহার্ঘ হবে?
চিনি মিষ্টি তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। তাই দীর্ঘ সময় ধরে দাম বেশি থাকলে তার প্রভাব মিষ্টির দোকানের উৎপাদন খরচে পড়তে পারে। এর সঙ্গে দুধ, ছানা, গুড়, জ্বালানি ও শ্রমের খরচও যুক্ত হওয়ায় পুজোর সময় মিষ্টির দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে এখনই রসগোল্লা বা সন্দেশের দাম কতটা বাড়বে তা নিশ্চিত নয়। সরকার আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারলে এবং চিনির দাম কমলে মিষ্টির দামের উপর চাপও কিছুটা কমতে পারে।
উৎসবের আগে বড় পরীক্ষা
সেপ্টেম্বর থেকে গণেশ চতুর্থী ও বিশ্বকর্মা পুজো দিয়ে উৎসবের মরসুম শুরু। এরপর দুর্গাপুজো, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা। এই সময়ে মিষ্টির চাহিদা স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ে। ফলে চিনির বাজারে বর্তমান অস্থিরতা কত দ্রুত কাটে, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাঙালির প্রিয় রসগোল্লা-সন্দেশের ভবিষ্যৎ দাম।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।