চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন
চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে কলকাতা হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই ফেরার পথেই নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, তিন বছরের শিশুপুত্র এবং শ্বশুরকে নিয়ে প্রাণ হারালেন তিনি।
নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যে পাঁচ জন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চার জন। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মহম্মদ আকরাম। পঞ্চম মৃত ব্যক্তি ঢাকার সাভারের বাসিন্দা বাবু আহমেদ।
চিকিৎসা করিয়ে কলকাতায় ফিরেছিলেন ১৮ অগস্ট
দেবাশীষ কুষ্টিয়ার সাংবাদিক। তিনি বাংলাদেশের ‘আজকের পত্রিকা’র কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেকে এবং শ্বশুরকে চিকিৎসা করানোর জন্য ৩ অগস্ট তাঁরা ভারতে এসেছিলেন।
বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর ১৮ অগস্ট বিমানে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। কলকাতা থেকে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই রাতেই নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে।
আত্মীয়ই শনাক্ত করলেন দেহ
ঘটনাচক্রে দেবাশীষের আত্মীয় কৃষ্ণ নন্দী বুধবার ব্যবসার কাজে কলকাতায় ছিলেন। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউ মার্কেট থানায় যান। পরে কলকাতা পুলিশ মর্গে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের দেহ শনাক্ত করেন তিনি।
দেবাশীষের কুষ্টিয়ার সহকর্মী শামীম আদনান জানিয়েছেন, তাঁর আরও একটি আট বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা-মাও জীবিত। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজখবর করছিলেন। পরে কলকাতা থেকে পাওয়া সূত্রে নিশ্চিত হন, পরিবারের চার জনই মারা গিয়েছেন।
আগুনে মৃত্যু ন’জনের
মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। একই ভবনে একাধিক হোটেল থাকায় দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন অংশেও। আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়াই অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে।
অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছ’জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে। বাকি তিন জনের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা নিউ মার্কেট থানা এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
চিকিৎসার জন্য কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভারতে আসা, চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি—সবকিছুই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল দেবাশীষদের। কিন্তু কলকাতায় সেই শেষ রাতের আগুন তাঁদের পুরো পরিবারকেই নিঃশেষ করে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।