চকোলেটের জন্য টাকা চাওয়ায় শিশুকন্যাকে হত্যা! লাতুরে পিতার হাতে অকালে ঝরে গেল ৪ বছরের প্রাণ

চকোলেটের জন্য টাকা চাওয়ায় শিশুকন্যাকে হত্যা!! একটি শিশুর হাসি পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্পাপ জিনিস। কিন্তু মহারাষ্ট্রের লাতুরে সেই নিষ্পাপ হাসি চিরতরে থেমে গেল এক পিতার অমানবিক নিষ্ঠুরতায়। মাত্র চার বছর বয়সী…

June 30, 2025
0 min read

চকোলেটের জন্য টাকা চাওয়ায় শিশুকন্যাকে হত্যা!!

একটি শিশুর হাসি পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্পাপ জিনিস। কিন্তু মহারাষ্ট্রের লাতুরে সেই নিষ্পাপ হাসি চিরতরে থেমে গেল এক পিতার অমানবিক নিষ্ঠুরতায়। মাত্র চার বছর বয়সী কন্যাসন্তান আরুষিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করলেন তাঁরই জন্মদাতা। কারণ? মেয়েটি চকোলেট খাওয়ার জন্য বাবার কাছে কিছু টাকা চেয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, লাতুর জেলার একটি গ্রামে। অভিযুক্ত পিতা, বালাজি রাঠৌর, ছিলেন প্রবল মাদকাসক্ত। আর এই আসক্তির জেরে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সংসারে অশান্তি চলছিল। স্ত্রী তাই সন্তানকে ছেড়ে না গিয়ে বাধ্য হয়েছিলেন আলাদা থাকতে। একমাত্র কন্যা আরুষিকে রেখে তিনি ফিরে যান বাপের বাড়ি। ওই সময় বাবার সঙ্গেই বাড়িতে থাকত ছোট্ট মেয়েটি।

রবিবার দুপুরে আরুষির চকোলেট খাওয়ার ইচ্ছে হয়। শিশুসুলভ আবদার করে সে বাবার কাছে কয়েক টাকা চায়। কিন্তু এমন এক সাধারণ আবদারে মাথা গরম হয়ে যায় বালাজির। অভিযোগ, তিনি তখন নেশায় বুঁদ ছিলেন। প্রথমে আরুষিকে মারধর করেন। এরপর বাড়ির মধ্যেই পড়ে থাকা একটি শাড়ি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে চেপে ধরেন। শ্বাসরোধ হয়ে মুহূর্তেই নিথর হয়ে পড়ে ছোট্ট আরুষি। বাবা হয়ে তিনি নিজেই কন্যার শত্রু হয়ে ওঠেন।

ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসেন শিশুটির মা। মেয়ের মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তারপর নিজেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে বালাজিকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদকাসক্ত এই পিতার বিরুদ্ধে আগেও পারিবারিক হিংসার অভিযোগ ছিল। কিন্তু এতটা ভয়াবহ পরিণতির কথা কেউ কল্পনাও করেননি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তাৎক্ষণিক রাগ ও নেশার ঘোরে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ কিংবা কোনো গোপন আক্রোশ কি এর পিছনে কাজ করেছে কি না।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরাও। তাঁরা বলছেন, “বালাজি বহুদিন ধরেই মাদকে আসক্ত। কিন্তু যে বাবা নিজের সন্তানকে এত সহজে শেষ করে দিতে পারে, তার কোনও ক্ষমা নেই।” শিশুটির মা দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, যাতে এমন পৈশাচিক কাজ আর কেউ না করতে পারে।

আরুষির মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, গোটা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। চার বছরের শিশুর জীবনের বিনিময়ে এই প্রশ্ন উঠছে—নেশার ছোবল কি শেষ করে দিচ্ছে আমাদের মানবিকতা? সন্তানকে বাঁচাতে কি আরও আগে নেওয়া যেত পদক্ষেপ?

‘আমার জীবনের চালিকাশক্তি তুমি’ – জন্মদিনে রুক্মিণীকে আদর করে দেব দিয়েছে স্পেশাল শুভেচ্ছা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *