‘ঘুমের ওষুধে গড়বড়, তাই রাগের বশে বলেছি’— কেষ্টর ভিডিওবার্তা ঘিরে বিতর্কের আগুন

ঘুমের ওষুধে গড়বড়, তাই রাগের বশে বলেছি! কখনও ‘দিদির পুলিশ’কে অকুণ্ঠ প্রশংসা, কখনও আবার হুমকি-অডিয়ো কাণ্ডে রাগের অজুহাত। সব মিলিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মণ্ডল, যিনি ‘কেষ্ট’…

May 30, 2025
1 min read

ঘুমের ওষুধে গড়বড়, তাই রাগের বশে বলেছি!

কখনও ‘দিদির পুলিশ’কে অকুণ্ঠ প্রশংসা, কখনও আবার হুমকি-অডিয়ো কাণ্ডে রাগের অজুহাত। সব মিলিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতা অনুব্রত মণ্ডল, যিনি ‘কেষ্ট’ নামেই অধিক পরিচিত। একদিকে পুলিশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা, অন্যদিকে পরপর দু’টি চিঠিতে বয়ান বদল। দলের চাপে কেষ্টর অবস্থান যত না পরিষ্কার, তার চেয়েও বেশি ধোঁয়াশায় ঘেরা।

সম্প্রতি বীরভূমের বোলপুর থানার আইসি-কে হুমকি দেওয়া সংক্রান্ত একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়। যেখানে কেষ্টর কণ্ঠেই আইসি-কে উদ্দেশ করে চড়া ভাষায় কিছু মন্তব্য শোনা যায়। প্রথমে তিনি অডিওর স্বত্বতা অস্বীকার করেন। আনন্দবাজার অনলাইনের কাছে দাবি করেন, “ওটা আমার গলা নয়। আমি কেন আইসিকে হুমকি দেব?” কিন্তু দিনের শেষে সেই সুরই বদলে ফেলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘চাপ’ এসে যাওয়ার পরই বদলায় কাহিনির মোড়।

তৃণমূল কড়া নির্দেশ দেয়— অনুব্রতকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। সময় দেওয়া হয় মাত্র চার ঘণ্টা। সেই সময়ের মধ্যেই প্রথম চিঠিতে কেষ্ট লেখেন, “আমি অনেক ওষুধ খাই। রাতে ঘুমের ওষুধ নিয়ে শুয়ে পড়ি। ওই দিন একজন কর্মীর ছেলের হাত-পা ভাঙার কথা শুনে মনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল।”

এরপর কিছুক্ষণ বাদেই আসে দ্বিতীয় চিঠি— আরও সংক্ষিপ্ত, আরও বিনীত। দলের সভাপতি সুব্রত বক্সীকে উদ্দেশ করে লেখা সেই চিঠিতে কেষ্ট লেখেন, “সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য আমি সমস্ত স্তরের কাছে নিঃশর্তভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

এই বয়ানবদল স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে বলেন, “তৃণমূল পুলিশকে দলদাসে পরিণত করেছে। যেই অফিসার দলের অনুগত নয়, তাকেই এভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, আইসি ও অনুব্রতের কথোপকথন রেকর্ড করে তা ছড়ানো হয়েছিল জেলা পরিষদের সভাপতির মাধ্যমে। সেই সূত্রেই তৈরি হয় অডিয়ো বিতর্ক।

শুধু মন্তব্যে থেমে থাকেননি শুভেন্দু। তিনি জানান, আগামী ৯ জুন বোলপুরে বিজেপি প্রতিবাদ মিছিল করবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২০২৬-এ আমরা ক্ষমতায় এলে অনুব্রতের বিরুদ্ধে মামলা রিভাইভ করে ওকে জেলে পাঠাব।”

আইনি দিক থেকেও সমস্যা বেড়েছে কেষ্টর। বোলপুর থানার আইসি-কে হুমকি ও অশালীন ভাষা প্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কাজে বাধা, শ্লীলতাহানি ও হুমকি।

পুলিশ সূত্রে খবর, অনুব্রতর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে তৃণমূলের কার্যালয়ে গিয়ে নোটিসও ধরানো হয়েছে।

আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *