দু’ঘণ্টা জেরা, দলের কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক শেষে রহস্যময় বার্তা কেষ্টর!
বোলপুর শহর যেন বৃহস্পতিবার এক অদ্ভুত চাপা উত্তেজনায় ভরে উঠেছিল। আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বীরভূমের আলোচিত তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, ওরফে কেষ্ট। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন তিনি। সেই ঘটনার ঠিক সাত দিন পরে, বিকেল সওয়া তিনটেয় হাজিরা দিতে যান বোলপুরের এসডিপিও দফতরে। দু’ঘণ্টা সেখানেই কাটান।
কিন্তু এখানেই থেমে যায়নি নাটক। এসডিপিও অফিস থেকে বেরিয়েই কেষ্ট সোজা চলে যান বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়ে। বাইরে সাংবাদিকদের ভিড়, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, মাইক্রোফোনের ভিড়ে প্রশ্নের বন্যা বইছে। কিন্তু কেষ্ট তখনও নিশ্চুপ। দলীয় কার্যালয়ে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। ভিতরে প্রায় আরও দু’ঘণ্টা কাটান। বাইরে অপেক্ষমাণ মিডিয়া ভাবছে, কবে মুখ খুলবেন তিনি?
অবশেষে সন্ধ্যার দিকে গাড়িতে উঠে দলীয় কার্যালয় ছাড়ার সময় দুই বাক্যে ভাঙলেন নীরবতা। বললেন, “আমি আগে দু’দিন দেখি! তার পর বলব। আগে চালচলন দেখি! তার পর।” ব্যস, এই রহস্যময় মন্তব্য করেই গাড়ি ছুটিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেন কেষ্ট।
বলাই বাহুল্য, তাঁর মন্তব্য ঘিরে জল্পনার ঝড় আরও প্রবল হল। কী সেই ‘চালচলন’? কার ‘চালচলন’ তিনি দেখবেন? পুলিশের? দলের? নাকি অন্য কারও? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসডিপিও অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনুব্রতের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয়েছে বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের দুটি মোবাইল ফোনও। কারণ, যেই অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে এই বিতর্ক, তা ওই দুই মোবাইল থেকেই ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান।
সেই অডিয়ো ক্লিপে শোনা যায়, অনুব্রত আইসি-কে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিচ্ছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন। ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়তেই বীরভূমে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়। বিষয়টি রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের কানে পৌঁছাতেই কেষ্টকে নির্দেশ দেওয়া হয় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার। নির্দেশ মেনেই প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান তিনি। তবে একইসঙ্গে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত শনিবারই তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়। কিন্তু টানা দু’দিন হাজিরা এড়িয়ে যান কেষ্ট। আইনজীবী পাঠিয়ে জানান, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। জমা পড়ে মেডিক্যাল রিপোর্টও।
তবে বৃহস্পতিবার তিনি আর সময় নষ্ট করেননি। এসে পড়লেন নিজে। তবে গুঞ্জন থামল না—দুই ঘণ্টার জেরা ও পরবর্তী দলীয় বৈঠকে কী আলোচনা হল, তা এখনও অজানা।
এই মুহূর্তে যা স্পষ্ট, তা হল অনুব্রত মণ্ডল ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর সামান্য দুটি বাক্যই নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বীরভূমের রাজনৈতিক আকাশে।