জাপানের ৭৫ বছর বয়সি হিরোতো কিরিটানির জীবনযাত্রা অবাক করে দিয়েছে অনেককে। প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তিনি স্টক মার্কেট থেকে। তবু তাঁর জীবনধারা দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি একজন কোটিপতি। সাধারণ সাইকেল চেপে বিনামূল্যের খাবার ও পরিষেবা সংগ্রহ করতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এই মিতব্যয়ী জীবনযাত্রার কারণে তাঁকে চীনের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা “গড অফ ফ্রিবিজ়” বলে ডাকেন।
কোটিপতির সাধারণ জীবনযাপন
হিরোতো কিরিটানির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। ১০০০টিরও বেশি সংস্থার স্টকে লগ্নি করে তিনি এই বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। তবে তাঁর জীবনের শুরুর গল্প অনেকটাই ভিন্ন। কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শোগি (জাপানি দাবা) খেলোয়াড় হিসেবে। পরে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই লাভের মুখ দেখেন।
তবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও হিরোতো একটি অত্যন্ত সাদামাঠা জীবনযাপন করেন। বিলাসবহুল গাড়ি বা বাড়ির প্রতি তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। সাধারণ পোশাক এবং একটি সাইকেল নিয়েই তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান। মজার বিষয়, তাঁর ব্যবহৃত সাইকেলটিও একটি বিনামূল্যের কুপনের মাধ্যমে কেনা।

মিতব্যয়ী জীবনযাপনের শুরু
২০০৮ সালে স্টক মার্কেটে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন হিরোতো। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে শিক্ষা দেয় অর্থের অপচয় রোধ করার। এরপর থেকেই তিনি মিতব্যয়ী জীবনযাপন শুরু করেন। খাবার, পোশাক, এবং বিনোদনের মতো প্রয়োজনীয় খরচগুলি কমানোর জন্য বিভিন্ন সংস্থার কুপন সংগ্রহ করতে শুরু করেন।
কুপনের প্রতি অনুরাগ
হিরোতো মনে করেন, কোনও কুপনের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে তা ব্যবহার করা উচিত। তাঁর সংগ্রহে থাকা কুপনগুলোর মাধ্যমে তিনি খাবার থেকে শুরু করে জিমের সদস্যপদ, সিনেমার টিকিট, সওনা পরিষেবা, এবং এমনকি রোলার কোস্টার রাইডও বিনামূল্যে উপভোগ করেন।
প্রতিদিন টোকিওর রাস্তায় সাইকেলে চড়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বিনামূল্যের খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায় তাঁকে। বিনামূল্যের পরিষেবা বা পণ্য নেওয়া তাঁর কাছে শুধু সাশ্রয় নয়, এটি একটি জীবনধারাও বটে।
অর্থ ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারহোল্ডার সুবিধা
শুধু কুপন নয়, হিরোতো তাঁর বিনিয়োগ করা সংস্থাগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বরাদ্দ বিশেষ সুবিধাগুলিও নেন। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তিনি এমন এক জীবনযাত্রা গড়ে তুলেছেন, যেখানে তিনি প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই বিনামূল্যে পেয়ে যান।
বিনোদনে বিনামূল্যের ছোঁয়া
হিরোতোর জীবনযাত্রায় বিনোদনও বাদ যায়নি। সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে গানের অনুষ্ঠান বা বাঞ্জি জাম্পিং—সবকিছুতেই তিনি বিনামূল্যের সুযোগ নেন। তাঁর মতে, বিনামূল্যের পরিষেবাগুলি না নেওয়া মানে অর্থের অপচয়।
উপসংহার
হিরোতো কিরিটানির কাহিনি শুধুমাত্র অর্থ সাশ্রয়ের নয়, বরং একটি সচেতন জীবনধারার উদাহরণ। বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তাঁর এই সাধারণ জীবনযাপন মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। অর্থ উপার্জনের সঙ্গে কীভাবে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মিতব্যয়ী হওয়া যায়, তা তিনি দেখিয়েছেন।
হিরোতোর জীবনযাত্রা আমাদের শেখায় যে জীবনের সুখ বিলাসবহুল জিনিসে নয়, বরং ছোট ছোট অভ্যাসে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাঁর এই জীবনধারা সত্যিই প্রেরণাদায়ক।
ইসরোর নতুন চেয়ারম্যান: ভি নারায়ণ দায়িত্ব নেবেন ১৪ জানুয়ারি