ঘনিষ্ঠতার নামে নাটকীয়তা নয় — বদলে যাওয়া সিনেমার ভাষা নিয়ে খোলামেলা ভাগ্যশ্রী

বদলে যাওয়া সিনেমার ভাষা নিয়ে খোলামেলা ভাগ্যশ্রী! একটা সময় ছিল, যখন তাঁর নাম উচ্চারণ মানেই দর্শকের মনে ভেসে উঠত একটাই ছবি— ম্যায়নে প্যার কিয়া। সেই ছবির সাফল্য আজও যেন ছায়ার…

February 27, 2026
1 min read

বদলে যাওয়া সিনেমার ভাষা নিয়ে খোলামেলা ভাগ্যশ্রী!

একটা সময় ছিল, যখন তাঁর নাম উচ্চারণ মানেই দর্শকের মনে ভেসে উঠত একটাই ছবি— ম্যায়নে প্যার কিয়া। সেই ছবির সাফল্য আজও যেন ছায়ার মতো জড়িয়ে রয়েছে অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী-র সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর্দায় খুব বেশি দেখা না গেলেও তাঁকে নিয়ে আলোচনা কখনও থামেনি। আর এখনকার সিনেমার বদলে যাওয়া ধারা নিয়ে আবারও স্পষ্ট ও সরাসরি মতামত জানিয়ে নতুন করে খবরের শিরোনামে তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান চলচ্চিত্রের প্রবণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী বেশ খোলামেলা মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, সিনেমার ভাষা সময়ের সঙ্গে বদলানো স্বাভাবিক। আগে যেখানে পুরুষকেন্দ্রিক গল্পই বেশি তৈরি হত, এখন সেখানে নারীকেন্দ্রিক গল্পের সংখ্যা বেড়েছে— যা তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন বলেই মনে করেন।

তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেই একটি বিষয় তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে— নায়ক-নায়িকার অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই গল্পের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এমন দৃশ্য যোগ করা হয়, যা নাটকীয়তা বাড়ানোর সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অভিনেত্রী বলেন, “ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকতেই পারে, যদি তা গল্পের প্রয়োজন হয়। কিন্তু শুধুমাত্র দর্শক টানার জন্য বা নাটকীয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন মুহূর্ত জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। এতে গল্পের গভীরতা কমে যায়।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি এখনও গল্প ও আবেগকেই সিনেমার আসল শক্তি হিসেবে দেখেন।

ভাগ্যশ্রী বরাবরই নিজের মতামত স্পষ্ট করে বলতে ভালোবাসেন। শুধুই সিনেমা নয়, ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং সামাজিক বিষয় নিয়েও তিনি নিয়মিত কথা বলেন। বিশেষ করে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে তাঁর পরামর্শ বহুবার আলোচিত হয়েছে।

সম্প্রতি তিনি পুরুষদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন। তাঁর মতে, একজন নারী যখন শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান— যেমন জীবনের বিভিন্ন জৈবিক পর্যায়ে— তখন তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসা খুবই স্বাভাবিক। সেই সময় স্বামীর দায়িত্ব হলো বিচার না করে সহানুভূতি ও সমর্থন দেওয়া।

ভাগ্যশ্রীর কথায়, “যদি স্ত্রীর মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন দেখেন, তখন বিরক্ত না হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। তিনি হয়তো এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে আপনার পাশে থাকা সবচেয়ে জরুরি।”

সিনেমার পরিবর্তিত ভাষা থেকে শুরু করে সম্পর্কের সূক্ষ্ম বোঝাপড়া— সব ক্ষেত্রেই তাঁর বক্তব্যে এক ধরনের সরলতা ও অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট। আর সেই কারণেই হয়তো তিনি খুব বেশি কাজ না করলেও, সময়ের পর সময় দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে থেকে গিয়েছেন।

আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া বিনোদনের জগতে দাঁড়িয়ে ভাগ্যশ্রীর এই স্পষ্ট মত যেন একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও তুলে দেয়— প্রযুক্তি আর ট্রেন্ডের ভিড়ে কি আমরা গল্পের আসল আবেগকে হারিয়ে ফেলছি? তাঁর মতে, ভালো গল্পের শক্তিই শেষ পর্যন্ত দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়— অতিরিক্ত নাটকীয়তা নয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *