গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘বিমা সখী যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকার দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ মহিলারা এলআইসি (লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া)-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী মহিলারা প্রথম বছরে মাসে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের আওতায় মহিলারা বিমা পলিসি বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও পাবেন। নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি, দেশের বিমা সেবা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘বিমা সখী যোজনা’ কী?
‘বিমা সখী যোজনা’ হল এলআইসি-র উদ্যোগে তৈরি একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ মহিলারা এই প্রকল্পে যোগ দিতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে, এক লক্ষ গ্রামীণ মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লক্ষে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পে কীভাবে কাজ করবেন মহিলারা?‘বিমা সখী’ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মহিলারা এলআইসি-র প্রশিক্ষণ পাবেন। প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ নিখরচায় প্রদান করা হবে। এই মহিলারা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে বিমা পলিসি বিক্রির কাজ করতে পারবেন। অর্থাৎ, এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী মহিলারা ঘরের কাজের পাশাপাশি এই পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন।উপার্জনের কাঠাম
প্রথম বছরে প্রতিমাসে মহিলারা ৭,০০০ টাকা বেতন পাবেন। তবে এই অঙ্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমবে। দ্বিতীয় বছরে এই বেতন ৬,০০০ টাকায় দাঁড়াবে এবং তৃতীয় বছরে তা ৫,০০০ টাকা হবে। তবে, ‘বিমা সখী’দের অতিরিক্ত কমিশন প্রদান করা হবে। বিমা পলিসি বিক্রির নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে তাঁরা আরও বেশি আয় করতে পারবেন।
প্রশিক্ষণ ও উন্নতির সুযোগ
এলআইসি জানিয়েছে, ‘বিমা সখী’দের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা কেবল বিমা বিক্রির কৌশল শিখবেন না, বরং উন্নত যোগাযোগ দক্ষতা ও আর্থিক জ্ঞানও অর্জন করবেন। যাঁদের স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তাঁরা ভবিষ্যতে এলআইসি-র ডেভেলপমেন্ট অফিসার পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া
‘বিমা সখী যোজনা’য় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব। গ্রামীণ মহিলারা সহজেই তাঁদের স্মার্টফোন বা নিকটস্থ সাইবার ক্যাফে থেকে আবেদন করতে পারবেন।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও গুরুত্ব‘বিমা সখী যোজনা’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার নারী ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এর পাশাপাশি, দেশের অনুন্নত ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বিমা পরিষেবার প্রসার ঘটানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প একদিকে যেমন মহিলাদের আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তুলবে, অন্যদিকে এলআইসি-র ব্যবসার পরিধিও বাড়াবে।
উপসংহার
‘বিমা সখী যোজনা’ শুধুমাত্র একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়; এটি গ্রামীণ মহিলাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এই প্রকল্প তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে। যাঁরা দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ এবং নিজের পরিচিতি তৈরি করতে চান, তাঁদের জন্য ‘বিমা সখী যোজনা’ নিঃসন্দেহে একটি সুবর্ণ সুযোগ।