গরুর দুধ থেকে জলাতঙ্ক! দিল্লিতে মহিলার মৃত্যুর পর চাঞ্চল্য

গরুর দুধ থেকে জলাতঙ্ক! দুধ তো সবারই শরীরের জন্য উপকারী, তাই না? কিন্তু দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দেখা গেল উল্টোটা! গরুর দুধ পান করার পরেই জলাতঙ্কে (র‍্যাবিস) আক্রান্ত…

March 23, 2025
1 min read

গরুর দুধ থেকে জলাতঙ্ক!

দুধ তো সবারই শরীরের জন্য উপকারী, তাই না? কিন্তু দিল্লিতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দেখা গেল উল্টোটা! গরুর দুধ পান করার পরেই জলাতঙ্কে (র‍্যাবিস) আক্রান্ত হয়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গবেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে—দুধে কীভাবে র‍্যাবিস ভাইরাস প্রবেশ করল? ইতিমধ্যেই ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ’ (আইসিএআর) সতর্কতা জারি করেছে এবং ঘটনার গভীরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গরুর দুধ থেকে সংক্রমণ—কীভাবে ঘটল এই ভয়াবহ ঘটনা?

দিল্লির ওই মহিলা গরুর কাঁচা দুধ পান করেছিলেন, যার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায়, তিনি জলাতঙ্ক বা হাইড্রোফোবিয়ায় আক্রান্ত। শরীরে মারণ র‍্যাবিস ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষমেশ মৃত্যু হয় তাঁর।

গবেষকদের দাবি, যেই গরুর দুধ ওই মহিলা পান করেছিলেন, সেটিকে কিছুদিন আগে একটি কুকুর কামড়েছিল। সেই কামড়ের মাধ্যমে গরুটির শরীরে র‍্যাবিস ভাইরাস ঢুকে পড়ে। এরপর সেই গরুর দুধ পান করায় সংক্রমিত হন মহিলা।

এই ঘটনার পরেই নজরদারিতে খাটাল ও দুগ্ধ খামার

দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকার সমস্ত খাটাল ও দুগ্ধ খামারে নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, অসুস্থ গরুদের শনাক্ত করার জন্য পশু চিকিৎসকদের তৎপর করা হয়েছে।

র‍্যাবিস ভাইরাস: ভয়াবহ কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ র‍্যাবিসে আক্রান্ত হন। সাধারণত কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, শেয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় থেকে এটি সংক্রমিত হয়। তবে এই ঘটনায় প্রমাণিত হলো, সংক্রমিত প্রাণীর দুধ, লালা বা মলমূত্র থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

র‍্যাবিসের সংক্রমণ হলে শরীরে একের পর এক মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়:

  • প্রথমে হালকা জ্বর, মাথাব্যথা
  • শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থির ফোলা
  • জল দেখলে ভয় (হাইড্রোফোবিয়া)
  • অসংলগ্ন কথা বলা, স্নায়বিক সমস্যা
  • শেষ পর্যায়ে পক্ষাঘাত বা কোমায় চলে যাওয়া

সতর্কতা ও প্রতিরোধের উপায়

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কাঁচা দুধ কখনোই না খাওয়ার জন্য। দুধ অবশ্যই ভালো করে ফুটিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়।

এছাড়া, যদি সন্দেহ হয় যে কোনো দুগ্ধজাত প্রাণী সংক্রমিত, তবে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অ্যান্টি-র‍্যাবিস টিকা ও র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) নেওয়া বাধ্যতামূলক।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দিল, সাধারণ অভ্যাসের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ! সচেতনতা ও সতর্কতা থাকলেই এড়ানো যেতে পারে প্রাণঘাতী সংক্রমণ।

শেষমেশ ব্রিটেনযাত্রায় মমতা! হিথরোর বিপর্যয় কাটিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় রওনা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *