খারাপ স্পর্শের শিকার ভারতী সিংহ!
হাসি-ঠাট্টা আর মজার কথায় যিনি দর্শকদের মন ভরিয়ে দেন, সেই জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ভারতী সিংহ সম্প্রতি নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় সামনে এনেছেন। তাঁর মুখে এই অভিজ্ঞতার কথা শুনে অনেকেই স্তম্ভিত হয়েছেন। ছোটবেলার দুঃসহ স্মৃতির কথা জানাতে গিয়ে তিনি জানান, খুব অল্প বয়সেই যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন এতটাই সরল ও অনভিজ্ঞ ছিলেন যে বুঝতেই পারেননি, আসলে কী ঘটছে তাঁর সঙ্গে।
শৈশব থেকেই কষ্টে ভরা ছিল ভারতীর জীবন। অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে দেন তিনি। একাকী মা-ই ছিলেন তাঁর আশ্রয় ও ভরসা। সংসারের খরচ সামলাতে মায়ের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন রকম কাজ করতে হতো তাঁকে। অর্থকষ্টের মধ্যে থেকেও ভারতীর মনে ছিল এক আলাদা স্বপ্ন—কৌতুকশিল্পী হওয়ার। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ওয়ার্কশপে গিয়ে নিজের প্রতিভা দেখাতেন। কিন্তু এই স্বপ্নের পথে চলার সময়েই তিনি মুখোমুখি হন এমন কিছু ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার, যা আজও তাঁর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে।
ভারতী জানান, কলেজে পড়ার সময় প্রায়ই তাঁকে ভোরবেলায় অন্য কলেজ বা স্কুলে প্রশিক্ষণ দিতে যেতে হতো। সকাল পাঁচটার সময় বন্ধুর সঙ্গে বাসে যেতেন তিনি। সেই বাসে উঠত বহু দুধওয়ালা, আর ভিড় থাকত এতটাই যে দাঁড়ানোর মতো জায়গা মিলত না। ভিড়ের আড়ালে সেই দুধ বিক্রেতাদের খারাপ স্পর্শের শিকার হতেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে গিয়ে ভারতী বলেন, “আমার বয়স তখন খুবই কম। কেউ যদি অস্বস্তিকরভাবে আমাকে ছুঁত, আমি ভাবতাম হয়তো ভিড়ের কারণে হচ্ছে। সত্যিটা বুঝতে আমার প্রায় আড়াই বছর সময় লেগেছিল।”
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বাড়ে, আর তাঁর বোধও পরিণত হয়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, কোন স্পর্শ স্নেহময় আর কোনটা অশোভন। কিন্তু তখন পর্যন্ত মনের ভেতরে যে ক্ষত তৈরি হয়ে গিয়েছিল, তা সহজে মুছে যায়নি। ভারতী আরও জানান, তাঁর মা বা বোন এই বিষয় নিয়ে কখনও খোলাখুলি কথা বলতেন না। লজ্জা ও সংকোচের কারণে পরিবারেও আলোচনার জায়গা তৈরি হয়নি। ফলে সময়ের সঙ্গেই তিনি শিখেছেন কঠিন বাস্তবের মোকাবিলা করতে।
আজ যখন ভারতী হাজারো দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের হাসান, আনন্দ দেন, তখনও শৈশবের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে যায়। তবে তাঁর লড়াই আর দৃঢ়তা তাঁকে শুধু একজন সফল শিল্পীই বানায়নি, করেছে সাহসী নারীও।
ভারতীর অভিজ্ঞতা সমাজের জন্য বড় শিক্ষা। এখনও অসংখ্য নারী প্রতিদিন খারাপ স্পর্শের শিকার হন, অথচ লজ্জা বা অজ্ঞতার কারণে তাঁরা চুপ করে থাকেন। ভারতীর মতো সাহস করে খোলাখুলি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া শুধু অন্যদের সচেতন করবে না, বরং ভুক্তভোগীদের ভেতরও সাহস জোগাবে।