খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিতে যাবেন মোদী?
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। কিন্তু এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা ভারতের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, এক দিকে রয়েছে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক, অন্য দিকে পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ।
আগামী ৪ জুলাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের দিন তেহরানে শুরু হবে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। ইরানি পতাকায় মোড়া তাঁর দেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র কোম শহরে। পরে ৭ জুলাই সেখান থেকে ৯ জুলাই তাঁর নিজের শহর মাশহাদে সমাধিস্থ করা হবে তাঁকে। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করছে ইরান।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান ব্যক্তিগত ভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। যদিও নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মোদী যদি তেহরানে যান, তা হলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো ঘনিষ্ঠ আরব মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের সময় আবু ধাবি, দুবাই ও শারজার মতো শহর ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও। ফলে তেহরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আরব দেশগুলির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে আমিরশাহির সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা রয়েছে। এমনকি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় প্রযুক্তির দিকেও আগ্রহ দেখাচ্ছে আবু ধাবি। ফলে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের কাছে বড় বিষয়।
অন্যদিকে, ইজ়রায়েলও এই সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তেল আভিভ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম সহযোগী। ইরান ও ইজ়রায়েলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার আবহে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কী বার্তা দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে ইরানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বন্দর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চিনের প্রভাব মোকাবিলাতেও চাবাহারের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানেও মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি নিজে না গিয়ে প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়িকে পাঠিয়েছিলেন। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের আবহে।
নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় হয়ে উঠেছে। কিছু প্রাক্তন সেনাকর্তার মতে, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ অনুষ্ঠানে ইরানের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির নেতারাও উপস্থিত থাকতে পারেন। ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
যদিও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমানে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবু ইজ়রায়েল এই সমঝোতায় কতটা সন্তুষ্ট, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ৪ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দু’দিক থেকেই পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
এখন ভারতের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ— কী ভাবে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেও আরব মিত্র ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুত্ব অটুট রাখা যায়। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি— দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা কূটনৈতিক বার্তা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?