খাদ্যাভ্যাসের আড়ালে রাজনীতি!
দেশে খাবার নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। কে আমিষ খাবেন, আর কে নিরামিষ— এই বিষয় নিয়েই বহু বার রাজনীতি চর্চা হয়েছে। অরুণাভ খাসনবিশের আসন্ন ছবি ‘আমিষ’ সেই বিতর্ককে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরছে। ছবিটি ভৌতিক হলেও এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে সমাজ ও শ্রেণি বিভাজনের গভীর বার্তা।
ছবির শুরুতেই দর্শক দেখতে পাবেন একটি মাছের মাথা। এই দৃশ্য শুধু ভয় ধরানোর জন্য নয়, বরং প্রতীকীভাবে সমাজের ভিতরে থাকা শ্রেণি বৈষম্যকে চিহ্নিত করে। অরুণাভ মনে করেন, গত কয়েক বছরে খাদ্যাভ্যাসকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে। কোথাও ফতোয়া, কোথাও তির্যক মন্তব্য— সব মিলিয়ে খাদ্যের সঙ্গে রাজনীতির অদৃশ্য সুতো এখন অনেক বেশি স্পষ্ট।
অরুণাভ নিজে উত্তরবঙ্গের মানুষ হলেও, তাঁর পর্যবেক্ষণ শহর ও গ্রামের মধ্যে থাকা মানসিক দূরত্ব নিয়েই। তাঁর কথায়, “শহুরে উচ্চবিত্তরা এখনও গ্রামের নিম্নবিত্তদের ছোট চোখে দেখেন। এমনকি ভাষার ক্ষেত্রেও কলকাতার উচ্চারণ অনুকরণ করতে চান অনেকে, যেন তবেই নিজেকে ‘উচ্চস্তরে’ প্রমাণ করা যায়।” এই মানসিকতা খাদ্যাভ্যাসের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে।
তিনি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। অনেকেই গর্ব করে বলেন— “আমি আমিষ ছাড়া খেতেই পারি না।” এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের প্রকাশ নয়, বরং যাঁরা নিয়মিত আমিষ খেতে পারেন না, তাঁদের প্রতি এক ধরনের অজান্তে তাচ্ছিল্যের বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ খাবার হয়ে উঠছে শ্রেণি চিহ্নিত করার এক সূক্ষ্ম উপায়।
ছবিতে শহুরে উচ্চবিত্ত ও গ্রামের নিম্নবিত্তের দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। তাঁর মতে, এই বৈষম্য শুধু অর্থনৈতিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এমনকি চিন্তাভাবনাতেও প্রতিফলিত হয়। তাই ‘আমিষ’ কেবল ভৌতিক ছবি নয়, বরং সমাজের গভীর সমস্যাকে উন্মোচন করার এক শিল্পিত প্রচেষ্টা।
অভিনয়ে রয়েছেন প্রীতি সরকার, যিনি মূলত সামাজিক মাধ্যমে নেটপ্রভাবী হিসেবে পরিচিত। অনেকের প্রশ্ন ছিল— তিনি কি শুধুই অনুসরণকারীর সংখ্যা দেখে নির্বাচিত হয়েছেন? তবে অরুণাভ স্পষ্ট করেছেন, “আমি ওর অভিনয় দক্ষতা দেখেছি। শহুরে নাকউঁচু মেয়ের চরিত্রে প্রীতিকে একেবারে মানানসই লেগেছে।”
ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৯ অগস্ট। দর্শকদের কাছে এটি শুধু ভয়ের ছবি নয়, বরং ভাবনার খোরাক জোগাবে বলেই আশা করছেন পরিচালক। ‘আমিষ’ নামের মধ্যে যেমন খাদ্যের ইঙ্গিত, তেমনই লুকিয়ে আছে শ্রেণি বিভাজন, রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং সমাজের এক বাস্তব চিত্র।
অতএব, ‘আমিষ’ কেবল ভৌতিক বিনোদন নয়— এটি খাদ্যাভ্যাসের আড়ালে লুকোনো রাজনীতি ও সমাজের কঠিন সত্য তুলে ধরার এক সাহসী প্রয়াস।
বাচ্চার পছন্দের বার্গার ও পিৎজ়া, তবে স্বাস্থ্যকর করে কেমন করে তুলবেন?