খড়্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে সহকারী অধ্যাপকের রহস্যমৃত্যু!
খড়্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে এক সহকারী অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম দীপক রেড্ডি পুল্লাগুরম (৩৬)। তিনি আইআইটির ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং কর্মসূত্রে ক্যাম্পাসের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকতেন। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে দীপক রেড্ডির সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিষয়টি আইআইটি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ খড়্গপুর টাউন থানার অন্তর্গত হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
কোয়ার্টারের নিরাপত্তারক্ষীদের সহযোগিতায় পুলিশ ঘরের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকে। সেখানে দীপককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে আইআইটি ক্যাম্পাসের বি. সি. রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ। তদন্তকারীরা অধ্যাপকের ঘরটি সিল করে দিয়েছেন এবং সেখানে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত নথি ও অন্যান্য সামগ্রীও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদে থাকা দীপক রেড্ডির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি কোয়ার্টারের নিরাপত্তারক্ষী, প্রতিবেশী এবং তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিভিন্ন দিক জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সমস্যা ছিল কি না, কিংবা কর্মক্ষেত্রে কোনও চাপ বা অন্য কোনও কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না।
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, একজন অধ্যাপকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আইআইটি কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ পুলিশ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?