কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ট্রাম তুলে দিতে তৎপর রাজ্য: নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ

ট্রাম তুলে দিতে তৎপর রাজ্য কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থা ট্রামকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে একটি নাগরিক সংগঠন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালত সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ, পরিবহণ বিশেষজ্ঞ,…

December 30, 2024
1 min read

ট্রাম তুলে দিতে তৎপর রাজ্য

কলকাতা শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থা ট্রামকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে একটি নাগরিক সংগঠন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালত সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ, পরিবহণ বিশেষজ্ঞ, কলকাতা পুরসভা, রাজ্য পরিবহণ নিগম-সহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। এই কমিটির কাজ ছিল ট্রামের পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে সম্ভাব্য জটিলতাগুলি দূর করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তবে, মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, শহরে ট্রাম চালাতে তারা বিশেষ আগ্রহী নয়। এমনকি, চালু থাকা হাতে গোনা কয়েকটি রুট থেকেও ট্রাম পরিষেবা তুলে দেওয়ার জন্য তৎপর হয়েছে সরকার। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের গঠিত কমিটির সুপারিশও উপেক্ষা করা হয়েছে।

ট্রাম রুটে পিচ দিয়ে ট্রামলাইন ঢেকে দেওয়া হয়েছে

নাগরিক সংগঠনটির মতে, ট্রাম যাতে পুনরায় চালু হতে না পারে, তার জন্য শহরের বিভিন্ন অংশে ট্রামলাইন পিচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কালীঘাট, ভবানীপুর, জাজেস কোর্ট, এবং খিদিরপুরের মতো এলাকাগুলিতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে শুধু ট্রাম পরিষেবা বন্ধই হয়নি, বরং শহরের ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর এক প্রকার ‘প্রশাসনিক আঘাত’ বলে মনে করছেন ট্রামপ্রেমীরা।

টালিগঞ্জ-বালিগঞ্জ রুটে পরিষেবা বন্ধ

শহরের অন্যতম জনপ্রিয় ট্রাম রুট ছিল টালিগঞ্জ থেকে বালিগঞ্জ। গত অগস্ট মাসে এই রুটে রাসবিহারী মোড় সংলগ্ন এলাকায় পাইপলাইন মেরামতির জন্য ২০ দিন ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, ওই কাজ শেষ হলেও পুজোর সময়েও পরিষেবা চালু করা হয়নি। বরং বালিগঞ্জ স্টেশনের কাছে তিনটি ট্রামকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়।

পাইপলাইন মেরামতির পরেও পরিষেবা শুরু না হওয়ায় ট্রামলাইন মেরামতির কাজ শেষ করেছে কলকাতা পুরসভা। তবুও টালিগঞ্জ থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজ্য পরিবহণ নিগম কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ট্রামলাইনের মেরামতির কাজ যথাযথ হয়নি, ফলে এটি ট্রাম চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়।

এসপ্লানেড-খিদিরপুর রুটে একই অবস্থা

এসপ্লানেড থেকে খিদিরপুর রুটে ট্রাম পরিষেবা পুনরায় চালু করা নিয়েও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

রাজ্যের যুক্তি: দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রামলাইন ঢেকে দেওয়া হয়েছে

রাজ্যের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, যেখানে ট্রাম চলাচল করছে না, সেসব রুটে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য পুলিশ এবং পুরসভার সঙ্গে আলোচনা করে ট্রামলাইন পিচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে, নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, এটি আসলে ট্রাম পরিষেবা চিরতরে বন্ধ করার একটি পরিকল্পনা।

নাগরিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

‘কলকাতা ট্রাম ইউজ়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্য প্রশাসন আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে জোর করে ট্রাম তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

পরিবহণ দফতরের নীরবতা

পরিবহণ দফতরের কর্মকর্তারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে, তাঁরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে ট্রাম চালানো নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।

উপসংহার

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নাগরিক সংগঠনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব শহরের পরিবহণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলেছে। নাগরিক সংগঠনের মতে, সরকার পরিকল্পিতভাবে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য প্রশাসনের যুক্তি, নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আদালত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং ট্রামের প্রতি শহরবাসীর ঐতিহ্যের টান শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় কি না।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *