কোটায় ফের ছাত্রমৃত্যু!
রাজস্থানের কোটা — ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সারা দেশ থেকে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর গন্তব্য। কিন্তু এই শহর প্রায় প্রতি বছরই মর্মান্তিক খবরের সাক্ষী হয়ে ওঠে। বুধবার ফের সেই একই ছবি। দিল্লি থেকে পড়তে আসা ২০ বছরের এক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে কোটা শহরের এক পিজি ঘর থেকে।
📍 পিজি ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
মৃত ছাত্রের নাম লাকি চৌধরি, বয়স মাত্র ২০। জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে কোটা এসে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। বুধবার রাতে বিজ্ঞাননগর থানার সেক্টর–২-এর একটি পিজি আবাসনের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘরটি ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় দরজা ভেঙে ঢোকার পর দেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতেই সেটি পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।
📍 পড়াশোনা নিয়ে ধোঁয়াশা
পুলিশ সূত্রে খবর, লাকি গত বছর পর্যন্ত স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি কোথায় পড়ছিলেন, কী বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন বা কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না — তার কোনও তথ্য এখনও মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিশ। ঘর তল্লাশি করে সূত্র খোঁজা হচ্ছে, পাশাপাশি তাঁর পরিচিত ও আত্মীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
📍 আত্মহত্যার সম্ভাবনা, কিন্তু তদন্ত চলছে
প্রাথমিক অনুমান, লাকি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে পুলিশ আপাতত অপেক্ষা করছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য। মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ডিএসপি লোকেন্দ্র পালিওয়াল জানিয়েছেন, ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তাঁদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
📍 কোটার অন্ধকার দিক: পড়াশোনার চাপ আর মৃত্যুর মিছিল
প্রতিবছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী কোটা যান ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডাক্তারির প্রবেশিকার প্রস্তুতির জন্য। শহরজুড়ে অসংখ্য বড় ও ছোট কোচিং সেন্টার রয়েছে। কিন্তু এই শহরের এক ভয়াবহ দিকও রয়েছে — প্রায় প্রতি বছরই একাধিক ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার খবর আসে এখান থেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরে জীবন শেষ করে ফেলার পথ বেছে নেন তারা।
এই পরিস্থিতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার দাবি উঠেছে বহুবার। এমনকি, কোচিং সেন্টারগুলিও পরীক্ষার পদ্ধতি এবং পড়াশোনার ধরন বদলানোর চেষ্টা করেছে। তবুও আত্মহত্যার সংখ্যা কমেনি। বুধবারের ঘটনাও সেই উদ্বেগজনক তালিকায় নতুন সংযোজন হয়ে গেল কি না, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
📍 শেষ কথা
২০ বছরের এক তরুণের অসময়ে মৃত্যু আবারও সামনে এনে দিল কোটার শিক্ষা ব্যবস্থার আর এক নির্মম বাস্তবতা। দেশের নানা প্রান্তের তরুণ-তরুণীরা যখন বড় স্বপ্ন নিয়ে এখানে আসে, তখন পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ এবং একাকিত্বের ভার অনেক সময় হয়ে দাঁড়ায় প্রাণঘাতী। লাকি চৌধরির মৃত্যু সেই ভয়ঙ্কর সত্যকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
এখন পুলিশ ও তদন্তকারীদের চোখ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে — কোটা কি কেবল স্বপ্নপূরণের শহর, নাকি অজস্র তরুণ জীবনের নিঃশব্দ সমাধিক্ষেত্র হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে?