কেজরীওয়ালের নিরাপত্তায় গুজরাত পুলিশ
পঞ্জাব পুলিশের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং গুজরাত পুলিশের মোতায়েন নিয়ে সরগরম ভারতের রাজনীতি। আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়াল এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। পঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেজরীওয়ালের অভিযোগ, তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গুজরাত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য কী?
পঞ্জাব পুলিশের সুরক্ষা প্রত্যাহার
বৃহস্পতিবার পঞ্জাব পুলিশের ডিজি গৌরব যাদব ঘোষণা করেন, পঞ্জাব পুলিশ কেজরীওয়ালের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করছে। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁদের সুরক্ষা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। গৌরব আরও বলেন, “আমরা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত এবং দিল্লি পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করে যাব।”
কেজরীওয়ালের অভিযোগ
শনিবার কেজরীওয়াল অভিযোগ করেন যে, দিল্লিতে তাঁর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পঞ্জাব পুলিশের পরিবর্তে গুজরাত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিজেপির পাল্টা জবাব
কেজরীওয়ালের অভিযোগের জবাবে গুজরাতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লির ভোট নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, “কেজরীওয়াল শুধু গুজরাত পুলিশের নাম কেন উল্লেখ করছেন?” হর্ষ আরও বলেন, “কমিশন শুধু গুজরাত নয়, বিভিন্ন রাজ্য থেকে পুলিশ চেয়ে পাঠিয়েছে। সেই অনুরোধ অনুযায়ী, গুজরাত থেকে আট কোম্পানি স্পেশাল রিজার্ভ পুলিশ (এসআরপি) বাহিনী পাঠানো হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সুরক্ষার জন্য প্রায়ই বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশবাহিনীকে কাজে লাগায়। এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি। কমিশনের দাবি, এর মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। তবে কেজরীওয়াল এই পদক্ষেপকে উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কেজরীওয়ালের অভিযোগ বিজেপি ও আপের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন দিক তুলে ধরে। পঞ্জাব এবং দিল্লিতে আপের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে, যা বিজেপির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে কেজরীওয়াল এই অভিযোগ এনে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করেছেন।
উপসংহার
কেজরীওয়ালের নিরাপত্তা নিয়ে পঞ্জাব পুলিশের পদক্ষেপ এবং গুজরাত পুলিশের মোতায়েন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিজেপি এই সিদ্ধান্তকে নিয়ম মেনে নেওয়া পদক্ষেপ বললেও, কেজরীওয়াল এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছেন। বিষয়টি কেবল সুরক্ষা ব্যবস্থার নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বেআইনি ও হেলে পড়া বাড়ির সঙ্কটে বোরোভিত্তিক নজরদারি বাড়াচ্ছে কলকাতা পুরসভা