কেকেআরের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নেওয়া হাতটাই কেটে ফেলতে হত!
Mohsin Khan— নামটা এখন আইপিএল জুড়ে আলোচনায়। Kolkata Knight Riders-এর বিরুদ্ধে চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট— পরিসংখ্যানটাই বলে দেয় তিনি কতটা বিধ্বংসী ছিলেন। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প।
মৃত্যু-সীমা ছুঁয়ে ফেরা
মাত্র তিন বছর আগে পরিস্থিতি এমন ছিল, তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার তো দূরের কথা— হাতটাই বাঁচবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। গুরুতর চোটে তাঁর বাঁ কাঁধে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, ধমনিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, স্নায়ুও প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন— আর কিছুটা দেরি হলেই তাঁর বাঁ হাত কেটে ফেলতে হতে পারত।
অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ রিহ্যাব— সব মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।
লড়াই থেকে প্রত্যাবর্তন
সেই অবস্থা থেকে মাঠে ফেরা সহজ ছিল না। নিজেই বলেছিলেন, এক সময় হাত তুলতে পারতেন না, সোজা করতে পারতেন না। কিন্তু ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম আর মানসিক জোর— এই তিনেই ফিরে আসেন তিনি।
আজ সেই হাতেই ভেঙে দেন কেকেআরের ব্যাটিং লাইন-আপ।
আইপিএলে উত্থান
Lucknow Super Giants-এর হয়ে এ মরসুমে মাত্র চার ম্যাচ খেলেই ৯ উইকেট— ইকোনমি ৬.৩৭। তার মধ্যে কেকেআরের বিরুদ্ধে এই ৫ উইকেট যেন তাঁর কামব্যাকের সিলমোহর।
গুড লেংথ, গতির পরিবর্তন— ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করতে তিনি এখন দারুণ দক্ষ।
লকডাউন— জীবনের টার্নিং পয়েন্ট
কোভিড লকডাউনের সময়ই তাঁর জীবনে আসে বড় মোড়। সেই সময় Mohammed Shami-র সঙ্গে দীর্ঘদিন অনুশীলনের সুযোগ পান। শামির কাছ থেকে শেখেন লাইন-লেন্থ, মানসিকতা, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা— যা তাঁকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।
শামি নিজেও বলেছিলেন— মহসিন একদিন তাঁর থেকেও ভাল বোলার হতে পারে।
শুরুর গল্প
উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের ছেলে মহসিন ছোটবেলায় ব্যাটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোচ বদরুদ্দিন তাঁর বোলিং প্রতিভা চিনে নিয়ে সেই দিকেই ঠেলে দেন। পরে অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটে মাত্র তিন ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?