কূটনৈতিক উত্তেজনার পথে ভারত-পাকিস্তান, হাই কমিশনের আধিকারিককে বহিষ্কার ইসলামাবাদের

কূটনৈতিক উত্তেজনার পথে ভারত-পাকিস্তান! ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের উত্তপ্ত। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই টানাপড়েনের মধ্যেই এবার পাকিস্তান দিল্লির পথে হেঁটে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয়…

May 14, 2025
1 min read

কূটনৈতিক উত্তেজনার পথে ভারত-পাকিস্তান!

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের উত্তপ্ত। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই টানাপড়েনের মধ্যেই এবার পাকিস্তান দিল্লির পথে হেঁটে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনের এক আধিকারিককে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল।

মঙ্গলবার সকালে ভারত সরকার দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনের এক আধিকারিককে একইভাবে ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তার কিছু ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা ব্যবস্থা নেয় ইসলামাবাদ। শাহবাজ শরিফের সরকার জানায়, ভারতীয় ওই কূটনীতিক তাঁদের দেশে তাঁর মর্যাদার পরিপন্থী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন, ফলে তাঁকে পাকিস্তান ছাড়তে হবে।

পাক বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় ওই আধিকারিককে বহিষ্কারের বিষয়টি ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের শীর্ষ কূটনীতিকের (চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্স) কাছে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের কার্যকলাপে তিনি যুক্ত ছিলেন, বা কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পাকিস্তান।

এই পরিস্থিতিকে অনেকেই দেখছেন ‘প্রতিশোধমূলক কূটনীতি’ হিসেবে। কারণ, ভারতের তরফেও বহিষ্কারের কারণ সরকারি ভাবে জানানো হয়নি, তবে সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দিল্লিতে পাকিস্তানের দূতাবাসের এক কর্তা জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই মামলায় এক মহিলাসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে পঞ্জাব পুলিশ। সেখান থেকেই পাক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্ক চরমে। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে সেই হামলার জন্য। পাকিস্তান যদিও সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে। কিন্তু মোদী সরকার থেমে থাকেনি—পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তারা সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করে এবং সামরিকভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায়। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সীমান্তে লাগাতার গোলাবর্ষণ শুরু করে এবং ভারতের সেনাঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা চালায়। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে প্রাণ হারান সেনা সদস্য থেকে সাধারণ মানুষও। পরে দু’দেশের আলোচনায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

এই উত্তেজনাপূর্ণ আবহেই দু’দেশের হাই কমিশনের দুই কর্তার বহিষ্কার নতুন করে কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করল। এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত তখনই নেওয়া হয়, যখন সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই টানাপড়েন কি আবার দু’দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে দেবে, না কি আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার আগে চাপ তৈরির কৌশল? উত্তর সময়ই দেবে।

ফের জৈসলমের! নতুন রহস্যের পর্দা ফাঁস করতে যাচ্ছেন সব্যসাচী, সঙ্গী মেঘলা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *