কুকুরের দেহে মেনিনজাইটিসের মতো রোগ! ইঁদুরের ছড়ানো পরজীবী থেকে নতুন বিপদের আশঙ্কা, সতর্ক বার্তা গবেষকদের

কুকুরের দেহে মেনিনজাইটিসের মতো রোগ! বর্ষা এলেই যেমন মানুষের নানা অসুখবিসুখের প্রকোপ বাড়ে, তেমনই ঝুঁকিতে পড়ে পোষা কুকুরেরাও। কিন্তু এবার নতুন এক আশঙ্কা সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা— ইঁদুর…

June 18, 2025
1 min read

কুকুরের দেহে মেনিনজাইটিসের মতো রোগ!

বর্ষা এলেই যেমন মানুষের নানা অসুখবিসুখের প্রকোপ বাড়ে, তেমনই ঝুঁকিতে পড়ে পোষা কুকুরেরাও। কিন্তু এবার নতুন এক আশঙ্কা সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা— ইঁদুর থেকে ছড়াচ্ছে এমন এক পরজীবীঘটিত রোগ, যা কুকুরের দেহে সৃষ্টি করছে মেনিনজাইটিসের মতো উপসর্গ। নাম ‘র‌্যাট লাংওয়ার্ম ডিজিজ’। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মারাত্মক রূপ নিতে পারে এই সংক্রমণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে থাকা ‘অ্যাঞ্জিয়োস্ট্রনজিলাস ক্যান্টোনেনসিস’ নামক একটি পরজীবীই এই রোগের মূল কারণ। ইঁদুরের মল বা শরীর থেকে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে এই জীবাণু। পরে তা শামুক, স্লাগের শরীরে প্রবেশ করে এবং বংশবিস্তার শুরু করে। বর্ষায় জমে থাকা জল, মাটি বা শামুকের সংস্পর্শে এসে কুকুরের শরীরে প্রবেশ করলে শুরু হয় সংক্রমণ।

কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে কুকুরের শরীরে?

এই সংক্রমণের নাম ‘অ্যাঞ্জিয়োস্ট্রনজিলাইসিস’। মানুষের মেনিনজাইটিসের মতোই কুকুরের স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ হানে এটি। লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

  • জ্বর ও বারবার বমি
  • খিঁচুনি এবং অস্থিরতা
  • চলাফেরায় অসুবিধা বা পা টেনে হাঁটা
  • নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা
  • স্নায়বিক দুর্বলতা ও পক্ষাঘাতের সম্ভাবনা

পোষ্য যদি হঠাৎ করে নিস্তেজ হয়ে যায়, স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয় কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে রাখা যাবে সাবধানতা?

গবেষকেরা এবং পুষ্টিবিদেরা একমত, এই রোগ ঠেকাতে হলে চাই পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা। নিচে রইল কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ:

  • পরিষ্কার রাখুন আশপাশ: বাড়ির আশপাশে যেন ইঁদুরের বাস না হয়, সেদিকে নজর দিন। প্রয়োজনে পোকামাকড় বা ইঁদুর তাড়ানোর ব্যবস্থা নিন।
  • বর্ষার দিনে সতর্ক থাকুন: ভেজা জায়গা, পচা মাটি বা রাস্তার জল থেকে পোষ্যকে দূরে রাখুন। হাঁটাতে বেরোলে নজর রাখুন যাতে তারা মুখ দিয়ে কিছু না নেয়।
  • খাবারে সচেতনতা: বাসি খাবার বা ধোয়া না-হওয়া ফল-সব্জি পোষ্যকে দেবেন না। প্রতিদিনের জল ফুটিয়ে দিন।
  • ব্যক্তিগত সামগ্রী পরিষ্কার রাখুন: পোষ্যের খাবারের বাটি, খেলার জিনিস ও শোওয়ার জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার করুন।
  • চোখ রাখুন আচরণে: ঘন ঘন বমি, খাওয়ায় অনীহা, শরীর ঝিমঝিম করা বা হাঁটার সমস্যা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসা করান।

এই রোগটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন গবেষকেরা। তাই বর্ষার মরসুমে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এবং যেখানে জল জমার প্রবণতা বেশি, সেই সব জায়গায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *