কাশ্মীরে নিঃশব্দে শিয়া-সুন্নি জোট: ভয়ঙ্কর মাস্টারমাইন্ড সক্রিয়, উপত্যকায় নিস্তার নেই

কাশ্মীরে নিঃশব্দে শিয়া-সুন্নি জোট! দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের। হামলাকারীরা আজও অধরা। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) অনেক তথ্য পেয়েছে— কে অস্ত্র জোগাড় করেছে, কোন পথে এসেছে, কত আগে…

May 6, 2025
1 min read

কাশ্মীরে নিঃশব্দে শিয়া-সুন্নি জোট!

দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসের। হামলাকারীরা আজও অধরা। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) অনেক তথ্য পেয়েছে— কে অস্ত্র জোগাড় করেছে, কোন পথে এসেছে, কত আগে থেকে পরিকল্পনা চলেছে— সবই আজ স্পষ্ট। এমনকি, হামলাকারীদের ছবি পর্যন্ত সামনে এসেছে। কিন্তু ধরা পড়েনি কেউই। কারণ তারা গা ঢাকা দেয়নি জঙ্গলে, বরং মিশে গেছে সাধারণ মানুষের ভিড়ে।

এত নিখুঁত পরিকল্পনা, এত ঠান্ডা মাথায় এই হামলা— স্পষ্ট, স্থানীয়দের একাংশ ছিল তাদের পাশে। আর এখানেই চোখ কপালে উঠছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। কারণ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এক দল টাট্টুওয়ালা, অর্থাৎ পহেলগাঁওয়ের পাহাড়ি পর্যটক ঘোড়াচালকেরা— যারা আসলে গুজর বকরওয়াল সম্প্রদায়ের, মূলত শিয়া মুসলিম। অথচ, কাশ্মীরের ইতিহাস বলে, সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে থাকা প্রায় সব পক্ষই ছিল সুন্নি মতের।

তাহলে কি এবার শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদও মুছে গেল কাশ্মীরে? এমন সেতুবন্ধনের পেছনে নিশ্চয়ই একজন শক্তিশালী মাস্টারমাইন্ড কাজ করছে। এমনটা সাধারণ কোনো জঙ্গি বা দালালের কাজ নয়, বরং কাশ্মীরকে নতুন করে রক্তাক্ত করার জন্য নিখুঁত চক্রান্তের ফল।

প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় ষড়যন্ত্র চলল— আর ভারতীয় বাহিনী, গোয়েন্দারা টেরই পেল না? আসলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে কৌশলও। আগে যেভাবে সরাসরি মানুষের সঙ্গে সংযোগ রাখার চেষ্টা ছিল, সেটাই এখন হারিয়ে গেছে প্রযুক্তির ছত্রছায়ায়। গ্রাউন্ড টাচ বা ‘হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স’ এখন অনেকটাই কমে গেছে। আর সেই সুযোগেই এই ষড়যন্ত্রকারীরা ঠাঁই করে নিচ্ছে জনগণের মধ্যেই।

আমি নিজে যখন কোর কমান্ডার ছিলাম, একবার বানভাসি সেনা সদস্যদের স্থানীয় ছেলেরা উদ্ধার করেছিল ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা তাদের সম্মান জানিয়ে কাছে টেনেছিলাম। ক্রিকেট, ফুটবল— এমন নানা মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলাম। এর ফল ছিল হাতেনাতে— এলাকায় কিছু ঘটার আগেই খবর চলে আসত আমাদের কাছে।

এটাই হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স। মসজিদের মৌলবিকে সামলাতেও আমরা এক নতুন পথ নিয়েছিলাম— কঠোরতা নয়, বরং সৌজন্যে জিতে নেওয়ার কৌশল। কয়েক মাসের মধ্যেই বদলে গিয়েছিল পরিস্থিতি।

কাশ্মীরে এখন আর নিশ্চিন্তে বসে থাকার সময় নেই। ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নেওয়া হয়েছে, নির্বাচন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সন্ত্রাস যে নিঃশব্দে রূপ পাল্টাচ্ছে, তা ভুলে গেলে চলবে না। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই আজও দোলাচলে— না পুরোপুরি সরকারের পক্ষে, না পুরোপুরি জঙ্গিদের।

তাঁদের মন জেতার লড়াইটা এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর সেই মন ছোঁয়ার উপায় একটাই— মানবিক স্পর্শ, সরাসরি যোগাযোগ। কাশ্মীরকে ভালো রাখতে হলে, তাকে বুঝতে হবে হৃদয় দিয়ে। কারণ, এখানকার প্রত্যেকটা পাথর, প্রত্যেকটা চোখ, একেকটা গল্প বলে— যেগুলো শোনা না গেলে, সুরক্ষা হয় শুধু বিভ্রম।

বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *