কাবেরীর ডাক
ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলোর একটি—কাবেরী যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন। প্রায় চার দশক ধরে স্থবির হয়ে থাকা এই প্রকল্প ঘিরে হঠাৎই দানা বাঁধছে নতুন উন্মাদনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে এক অনন্য আন্দোলন—‘#FundKaveriEngine’। সাধারণ নাগরিক, প্রতিরক্ষা উৎসাহী, এমনকি মিম নির্মাতারাও চাইছেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্র সরকার যেন বাড়তি অর্থ বরাদ্দ করে কাবেরীকে ‘জড়ভরত’ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে প্রাণবন্ত করে তোলে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কাবেরী তহবিলের দাবিতে জনতার ঝড়
২৬ মে হঠাৎই এক্স হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার) ছড়িয়ে পড়ে কাবেরী ইঞ্জিনের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে একের পর এক পোস্ট। কেউ পোস্ট করছেন প্রোটোটাইপের ছবি, কেউ আবার মিম, কার্টুন ও অ্যানিমেশন তৈরি করে তুলে ধরেছেন প্রকল্পটির গুরুত্ব। একজন ইউজার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের উদ্দেশে লেখেন, ‘‘ক্যরামেল পপকর্নে জিএসটি বাড়িয়ে যে আয় হবে, তা কাবেরীর কাজে লাগান। দেশের নিরাপত্তা তার চেয়েও মধুর।’’
তেজস ও আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন
ভারতের নিজস্ব হালকা যুদ্ধবিমান তেজসে এই ইঞ্জিন ব্যবহারের লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল কাবেরী প্রকল্প। ১৯৮৬ সালে DRDO-র GTRI (Gas Turbine Research Establishment)-তে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখনও পর্যন্ত ৯টি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে। কিন্তু একটিও ভারতীয় বায়ুসেনার নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়নি। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, উপযুক্ত সংকর ধাতুর অভাব এবং নির্মাণ পরিকাঠামোর দুর্বলতাই এর মূল কারণ।
অতীত থেকে শিক্ষা, ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি
ভারতের যুদ্ধবিমান নির্মাণের স্বপ্ন একদিনও থেমে থাকেনি। ১৯৬২-র চীন যুদ্ধের পর HF-24 মারুত তৈরি করে আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল HAL। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধে এই মারুত ই ছিল পাকিস্তানের এফ-৮৬ সাবরের দুঃস্বপ্ন। তবে কালের আবর্তে এই বিমান অবসর নেয়, এবং শুরু হয় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইঞ্জিন তৈরির প্রয়াস—কাবেরী।

আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে HAL মার্কিন জেনারেল ইলেকট্রিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তেজসের জন্য F404 ও F414 ইঞ্জিন আমদানি করছে। যদিও প্রযুক্তি হস্তান্তরে আমেরিকা গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, ফ্রান্সও রাফালের সোর্স কোড দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া হয়তো একমাত্র দেশ, যারা SU-57 ফাইটার জেটের ইঞ্জিন নির্মাণে ভারতকে সহায়তা দিতে আগ্রহী। তবে সেই সহযোগিতা কাবেরী প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতের ব্যবহারে কাবেরী?
বর্তমানে DRDO কাবেরী ইঞ্জিনের প্রয়োগের নতুন দিক ভাবছে—দূরপাল্লার ড্রোনে এর ব্যবহার। পরীক্ষাও চলছে রাশিয়ার পরীক্ষাগারে। তাই ইঞ্জিনটি হয়তো যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত না হলেও ভবিষ্যতের অটোনোমাস অস্ত্রে তার ব্যবহারিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।
৭৫-এ সুদৃঢ়, জিমে ঝড় তুলছেন রাকেশ রোশন! ফিট থাকার ৭টা সিক্রেট এক্সারসাইজ