কাঠবাদামের গুণে দীর্ঘায়ু!
নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বহু দিন ধরেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন। কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল যা দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, নিয়মিত কাঠবাদাম খাওয়ার অভ্যাস শুধু শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, বরং আয়ুষ্কালও দীর্ঘ করতে পারে।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও কাঠবাদামের ভূমিকা
আমাদের শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যাল এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের সঠিক ভারসাম্য থাকলে কোষ সুস্থ থাকে। কিন্তু এই ভারসাম্য নষ্ট হলে, অর্থাৎ যখন শরীরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বাড়ে, তখন কোষের ক্ষয় হয়, যা বয়সজনিত সমস্যা, হৃৎপিণ্ডের অসুখ বা ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়মিত খাবার, ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপান অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে আরও ত্বরান্বিত করে।
এই পরিস্থিতিতে ফল, শাকসবজি এবং বাদাম জাতীয় খাবার যেমন কাঠবাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কাঠবাদামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দূর করে এবং দেহের ক্লান্তি কমায়।
নতুন গবেষণার ফলাফল
‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্স-এর একদল গবেষকের করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দিনে প্রায় ৬০ গ্রাম কাঠবাদাম খেলে শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস অনেকটাই কমে যায়। এই গবেষণায় মোট ৪২৪ জন অংশগ্রহণকারীকে ৪ থেকে ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন ৫ থেকে ১৬৪ গ্রাম বাদাম খাওয়ানো হয়। যাঁরা নিয়মিত ৬০ গ্রামের বেশি কাঠবাদাম খেয়েছেন, তাঁদের শরীরে কোষ ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা কমেছে এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের কার্যকারিতা বেড়েছে। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও কমেছে, যা শরীরে প্রদাহ এবং স্ট্রেস বাড়ানোর জন্য দায়ী।
সতর্কতা ও সঠিক উপায়
গবেষণায় বলা হয়েছে, ৬০ গ্রাম মানে প্রায় ২২টি কাঠবাদাম। তবে যারা কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগে ভুগছেন, তাঁদের অতিরিক্ত বাদাম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সরাসরি বাদাম না খেয়ে স্যালাড, স্মুদি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও কাঠবাদাম খাওয়া যায়।
কাঠবাদাম কেবল পুষ্টির আধারই নয়, বরং সঠিক পরিমাণে খেলে এটি হতে পারে আপনার শরীরের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যরক্ষক। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ কাঠবাদাম যুক্ত করুন এবং শরীরকে দিন অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের শক্তি।