কলার বড়া থেকে হলুদ সুতো
প্রতি বছর মে মাস এলেই বাঙালি পরিবারের ঘর আলো করে জামাইষষ্ঠী। শাশুড়ির হাতের রং-বেরঙের পঞ্চব্যঞ্জন থালা, সাত রকম মাছের আয়োজন আর বিশেষ রীতি-নীতি নিয়ে বরণ করা হয় জামাইকে। আর সেই ধুমধামেই এবারে পঞ্চম জামাইষষ্ঠী পালন করলেন দেবলীনা কুমারের মা দেবযানী কুমার, জামাই গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য।
জামাইষষ্ঠীর রং-বেরঙের আয়োজন
দেবযানী বললেন, “জামাইষষ্ঠীর প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগেই। এই দিন সকালে গৌরব শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে যান। সকালেই শুরু হয় এক বিশেষ রীতি — ফল, পান, বটপাতা, ডুমুর দিয়ে বাঁধা ডালা দিয়ে পুজো। এই পুজোটা গৌরবের নামে। তারপর ওই ডালা দিয়ে তাকে বরণ করি, তালপাতার পাখায় হাওয়া দিয়ে আর হাতের হলুদ সুতো বেঁধে। এটাই জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার।”
ঐতিহ্যের স্বাদ — কলার বড়া ও পায়েস
জামাইষষ্ঠীর খাবারের তালিকায় যেন বাঙালি ঘরের গন্ধ মিশে থাকে। দেবযানী বলেন, “কলার বড়া আমাদের বাড়ির ঐতিহ্য। নিয়মমতো পায়েস, মিষ্টি আর ফল অবশ্যই থাকতে হবে। আমটা অবশ্য একটু হলেও খেতে হয়। আর কাঁঠালও দেওয়া হয়, যদিও গৌরব কাঁঠাল খেতে পছন্দ করেন না।”
মধ্যাহ্নভোজে পঞ্চব্যঞ্জন থালা ও সাত রকম মাছ
দুপুরের খাবারেও নেই কোনও কমতি। “শুরু হয় শুক্তো আর ভাত দিয়ে। তারপর ডাল আর পাঁচ রকমের ভাজা। তারপর আসে সাত রকম মাছ — ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি, ভেটকি, পাবদা, পমফ্রেট আর ট্যাংরা। সাত রকম মাছের আয়োজন আমাদের বাড়ির নিয়ম হয়ে গেছে, কারণ গৌরব মাছ খুব ভালোবাসেন। আর দেবলীনার পছন্দ অনুযায়ী পমফ্রেট মাছ বিশেষ জায়গা পায়,” দেবযানী হেসে বলেন।
শাশুড়ির রীতি ও নিষেধাজ্ঞা
তবে জামাইষষ্ঠী শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, শাশুড়িদের জন্য কিছু বিধিনিষেধও আছে। দেবযানী জানান, “এই দিনে পায়েস আমি খাই না, কারণ এটা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়াও আমরা নিরামিষ খাবারই গ্রহণ করি। জামাইষষ্ঠীতে শাশুড়িদের খাওয়াদাওয়ার উপর কিছু নিয়ম থাকে।”
দ্বিতীয় পর্ব – দেবলীনার দিদিমার ঘর
শুধু শ্বশুরবাড়িতে নয়, জামাইষষ্ঠীর দ্বিতীয় পর্ব পালন করা হয় দেবলীনার দিদিমার বাড়িতেও। এখানে একটু ভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান হয়। “সেখানে আমরা ফিশ চপ, ডিমের ডেভিল আর কব্জি ডুবিয়ে পাঁঠার মাংস খাই। তবে অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশে। রীতিনীতি সেখানে তেমন কড়া নয়।”
শাশুড়ি দেবযানীর মন্ত্র
দেবযানী বললেন, “আমরা জামাইষষ্ঠী পালন করি শুধুমাত্র নিয়মের জন্য নয়, বরং পুরনো ঐতিহ্যগুলো যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলে সেটাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। জামাইকে ভালোবাসা, সম্মান জানানো আর পরিবারের বন্ধন মজবুত করাই এই উৎসবের মূল ভাবনা।”
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?