কলকাতার ‘রোল-কল’!!
পুজোয় কলকাতা মানেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, কেনাকাটা, আড্ডা আর অবশ্যই পেটপুজো। ঠাকুর দেখার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ খিদে পেয়ে গেলে এমন খাবারই চাই, যা হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই খেয়ে নেওয়া যায়। সেই জায়গায় কলকাতার রোলের জুড়ি মেলা ভার।
ডিমে মাখানো মুচমুচে পরোটার ভিতরে মাংস বা কাবাব, তার সঙ্গে পেঁয়াজ, নুন, লেবু, কাঁচালঙ্কা আর পছন্দের সস—এক কামড়েই যেন পুজোর ক্লান্তি উধাও। তাই এ বার পুজোয় কলকাতার ‘রোল-কল’-এ সাড়া দিতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এই সাত ঠিকানায়।
১. নিজ়াম’স, নিউ মার্কেট
কলকাতার কাঠি রোলের কথা উঠলেই প্রথম সারিতে আসে নিজ়াম’সের নাম। হগ মার্কেটের এই পুরনো প্রতিষ্ঠানকে কলকাতার কাঠি রোলের অন্যতম পথিকৃৎ বলা হয়। ১৯৩২ সাল থেকে পথচলা শুরু তাদের।
এখানে অবশ্যই চেখে দেখতে পারেন স্পেশ্যাল এগ-চিকেন কাঠি রোল। বেশি খিদে থাকলে ডবল এগ-চিকেন বা এগ-মটন রোলও নেওয়া যায়। একটু আলাদা স্বাদ চাইলে রয়েছে এগ-আলু রোল। দাম শুরু প্রায় ১০০ টাকা থেকে। পুজোর সময়ে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে।
২. বাদশাহ, নিউ মার্কেট চত্বর
নিজ়াম’স থেকে কয়েক মিনিট হাঁটলেই বাদশাহ। প্রায় ছয় দশকের পুরনো এই রেস্তরাঁর রোলেরও বেশ নামডাক রয়েছে।
বিশেষ করে মটন কাঠি ‘বাদশাহি’ রোলের ভক্তের সংখ্যা কম নয়। পাশাপাশি ডবল চিকেন চিজ় কাঠি রোল, চিকেন টিক্কা, চিকেন রেশমি, এগ এবং পনির রোলও পাওয়া যায়। দাম শুরু প্রায় ৭০ টাকা থেকে। বাদশাহি মটন কাঠি কবাব রোলের দাম প্রায় ২৬৫ টাকা।
৩. কুসুম রোলস, পার্ক স্ট্রিট
পার্ক স্ট্রিটে ঘোরাঘুরি হলে কুসুম রোলসের সামনে ভিড় দেখেই বুঝবেন, জায়গাটি কতটা জনপ্রিয়। প্রায় ৫৫ বছর ধরে রোল পরিবেশন করছে এই দোকান।
এগ, চিকেন, মটন, পনির, মাশরুম, চিজ়, মেয়োনিজ়—সব মিলিয়ে রোলের বিশাল সম্ভার। এমনকি মেটে দিয়েও রোল বানানো হয়। প্রায় ২০-২২ ধরনের রোলের মধ্যে নিজের পছন্দেরটি বেছে নিতে খানিকটা সময় লাগতেই পারে। দাম মোটামুটি ৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে।
৪. নীলাচল, বাগবাজার
উত্তর কলকাতায় ঠাকুর দেখতে বেরোলে বাগবাজারের নীলাচলে একবার থামতে পারেন। মাছের কচুরির জন্য বিখ্যাত হলেও এখানকার রোলও বহুদিনের জনপ্রিয়।
মটন শামি কবাব রোল এবং আফগানি রোল বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়। পাশাপাশি রয়েছে ভেটকি ফিশ রোল, এগ রোল, চিকেন-এগ, চিলি চিকেন, বাটার চিকেন এবং হট গার্লিক চিকেন রোল। মটন শামি কবাব রোলের দাম প্রায় ২৪০ টাকা, ভেটকি ফিশ রোল প্রায় ১৯৯ টাকা।
৫. বেদুইন, গড়িয়াহাট
দক্ষিণ কলকাতায় রোলের খোঁজ করলে বেদুইনের নাম এড়ানো কঠিন। গড়িয়াহাটের অন্যতম পুরনো এগ-রোলের ঠিকানা এটি।
এখানে প্রায় ১০-১২ ধরনের রোল পাওয়া যায়। মটন গলৌটি কবাব রোলের পাশাপাশি এগ-ফিশ টিকিয়া রোলও বেশ আলাদা। পুজোয় চেতলা অগ্রণী, দেশপ্রিয় পার্ক বা সিংহি পার্কের পুজো দেখতে গেলে গড়িয়াহাটে এসে একবার বেদুইনে ঢুঁ মারতে পারেন। রাত পর্যন্ত খোলা থাকে।
৬. আমিনিয়া, যশোহর রোড
বিরিয়ানির জন্য আমিনিয়ার পরিচিতি সর্বত্র। তবে রোলপ্রেমীদের কাছেও এই রেস্তরাঁর আলাদা জায়গা রয়েছে। কলকাতার বিভিন্ন শাখার মধ্যে যশোহর রোডের শাখাটিতে রোলের জন্য ভিড় চোখে পড়ে।
মটন রোলের পাশাপাশি এগ-মটন কাঠি, এগ-চিকেন কাঠি, ডবল মটন এবং পনির রোল পাওয়া যায়। দাম মোটামুটি ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
৭. জ়িশান, পার্ক সার্কাস
পার্ক সার্কাসে গেলে জ়িশানের এগ-মটন বোটি রোল না খেলে কলকাতার রোল-অভিজ্ঞতা যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দামও ১০০ টাকার আশপাশে বা তার কম।
এগ-মটন ব্রেন ফ্রাই রোল, ব্রেন রোল এবং ডবল এগ মটন টিকিয়াও পাওয়া যায়। এগ রোলের দাম প্রায় ৪০ টাকা, অন্য রোলগুলির দাম সাধারণত ১৫০ টাকার মধ্যে। সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউয়ের এই দোকান রাত ২টো পর্যন্ত খোলা থাকে।
পুজোর রাতে তাই মণ্ডপের ভিড়, আলো আর ঢাকের শব্দের ফাঁকে খিদে পেলে মনে রাখুন—কলকাতার রোল-কল কিন্তু সব সময়ই আপনাকে ডাকছে!
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।