ওড়িশায় কলেজের নির্যাতিতা তরুণীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক!
ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের সেই নির্যাতিতার লড়াই এখন হাসপাতালের শয্যায়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি এখনও। ভুবনেশ্বর এমসে চিকিৎসাধীন ছাত্রীটির কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, চলছে নিয়মিত ডায়ালিসিস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শরীরের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় শ্বাসযন্ত্র, কিডনি—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিল্লি এমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এই তরুণীর চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছেন। রবিবার ভুবনেশ্বর এমসে গিয়ে ওই ছাত্রীকে দেখতে যান ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ভুবন চরণ মাঝি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, চিকিৎসায় কোনও খামতি রাখা হবে না এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট এলেই দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত শনিবার কলেজ চত্বরে নিজেই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই তরুণী। অভিযোগ, তাঁর বিভাগের প্রধান যৌন হেনস্থা করতেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। সেদিন সকালে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গেও দেখা করতে যান তিনি। সেখান থেকে বেরিয়েই এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন।
নির্যাতিতার শরীরের পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়েছে, ফাইবারসহ গুরুত্বপূর্ণ রক্ত উপাদানগুলির মাত্রাও নীচে নেমে গিয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রক্তের শর্করার মাত্রাও নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে। তরুণীর চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড, যেখানে কার্ডিয়োলজি, মেডিসিন, প্লাস্টিক সার্জারি সহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। তাঁরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় শারীরিক পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন।
ভুবনেশ্বর এমসের ডিরেক্টর আশুতোষ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমে জানান, “পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এই ছাত্রীটির জীবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।”
ঘটনার সময় কলেজের এক ছাত্র তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং তিনিও দগ্ধ হন। বর্তমানে তিনিও হাসপাতালে ভর্তি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে গোটা ওড়িশা জুড়ে এই ঘটনার নিন্দা চলছে। বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ক সরাসরি রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুরও ওড়িশা সফরের সময় রাজনৈতিক নেতারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান বলে আবেদন জানিয়েছেন।
এই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন আগেই ছাত্রীর অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি, কেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না—তা নিয়েই উঠছে সমালোচনা।
আপাতত সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রয়েছে তরুণীর প্রাণ। গোটা রাজ্য আজ তাকিয়ে আছে ভুবনেশ্বর এমসের দিকে—জীবনের এই লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত জয়ী হতে পারবেন কি না সেই নির্যাতিতা!
বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?