এমবাপের হ্যাটট্রিক থামাল রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত? বিশ্বকাপে নতুন তর্কের জন্ম

এমবাপের হ্যাটট্রিক থামাল রেফারির বিতর্কিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু তাঁর পারফরম্যান্স নয়, বরং একটি বিতর্কিত…

June 17, 2026
1 min read

এমবাপের হ্যাটট্রিক থামাল রেফারির বিতর্কিত

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু তাঁর পারফরম্যান্স নয়, বরং একটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তও। অনেকের মতে, ওই সিদ্ধান্ত না হলে লিয়োনেল মেসির মতো এমবাপেও হ্যাটট্রিক করতে পারতেন।

সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘটনাটি ঘটে। বাম দিক থেকে দুরন্ত গতিতে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ছিলেন এমবাপে। তাঁর সামনে তখন শুধু গোলরক্ষককে পরাস্ত করার চ্যালেঞ্জ। ঠিক সেই সময় পিছন দিক থেকে স্লাইডিং ট্যাকল করেন সেনেগালের অধিনায়ক সাদিয়ো মানে। সংঘর্ষে মাটিতে পড়ে যান ফরাসি তারকা।

প্রথমে রেফারি আলিরেজা ফাঘানি কর্নারের সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু ফরাসি ফুটবলাররা সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির দাবি জানান। ভার (VAR) থেকেও রেফারিকে ঘটনাটি আবার দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ফরাসি সমর্থক তখন নিশ্চিত ছিলেন যে পেনাল্টি আসতে চলেছে।

কিন্তু রিপ্লে দেখার পর সম্পূর্ণ উল্টো সিদ্ধান্ত নেন ফাঘানি। তাঁর দাবি ছিল, এমবাপেই ইচ্ছাকৃতভাবে মানের পায়ে পা লাগিয়ে পড়েছেন। ফলে পেনাল্টি তো নয়ই, কর্নারও বাতিল করে গোল কিকের নির্দেশ দেন তিনি।

এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়ে যান এমবাপে নিজেও। মাঠে তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তিনি সিদ্ধান্তটি বিশ্বাসই করতে পারছেন না।

ম্যাচের ধারাভাষ্যকার এবং ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “মানে স্পষ্ট স্লাইডিং ট্যাকল করেছেন এবং এমবাপের পায়ে সংযোগ হয়েছে। এমবাপে কীভাবে উল্টো মানের পায়ে গিয়ে ধাক্কা মারবেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়।”

প্রাক্তন স্কটিশ ফুটবলার প্যাট নেভিনও একই সুরে বলেন, “এটা অত্যন্ত অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। এমবাপে সামনে দৌড়চ্ছিলেন, আর মানে পিছন থেকে ট্যাকল করেছেন। এমন ব্যাখ্যা আমি আগে শুনিনি।”

এমনকি বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা প্রাক্তন সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, “এটা স্পষ্ট পেনাল্টি ছিল। VAR থাকার পরেও এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল, তা বোঝা কঠিন।”

বিতর্ক সত্ত্বেও এমবাপে অবশ্য ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। পরে তিনি দুটি গোল করেন এবং ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে জিততে সাহায্য করেন। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪-তে। এই কৃতিত্বে তিনি জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের রেকর্ড স্পর্শ করেন এবং পেলে ও জঁ ফঁতের মতো কিংবদন্তিদের পিছনে ফেলেন।

তবে বিতর্ক এখানেই। অনেকের বিশ্বাস, যদি সেই পেনাল্টি দেওয়া হত, তাহলে এমবাপে সহজেই হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করতে পারতেন। কারণ স্পট-কিক নেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই থাকত এবং পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের হার অত্যন্ত উঁচু।

ফলে ম্যাচ জিতলেও ফরাসি শিবিরে আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। আর বিশ্বকাপেও যোগ হল নতুন এক রেফারিং বিতর্ক, যা নিয়ে আলোচনা চলবে আরও বহু দিন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *