এনডিএ বৈঠকে সুদীপের ঐক্যের বার্তা!
সংসদের বাদল অধিবেশনের মধ্যেই মঙ্গলবার এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিলেন এনসিপিআই-এর লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “এনসিপিআই-তে সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।” তবে সেই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়, কারণ দলের তিন সাংসদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
অনুপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। গত কয়েক দিন ধরেই এই তিন সাংসদকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তাঁরা কালীঘাট তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে আগ্রহী। সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা সৌগত রায়। সংসদ চত্বরে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানকে পাশে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা তো চাই সবাই ফিরে আসুন।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও সম্প্রতি দাবি করেন, এনসিপিআই-এর অন্তত ছয় সাংসদ এবং কয়েক জন বিধায়ক নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
এই আবহেই সংসদের গ্রন্থাগার ভবনে আয়োজিত এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে সুদীপের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত সপ্তাহে তিনি বৈঠকে থাকতে না পারায় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সে দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশে প্রথম সারিতে বসেছিলেন কাকলি। মঙ্গলবার সেই জায়গাতেই দেখা গেল সুদীপকে। একই সারিতে ছিলেন মোদী, শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, অন্য প্রান্তে বসেন কাকলি। দ্বিতীয় সারিতে উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়।
এনডিএ-র বৈঠকের পর মঙ্গলবারই দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা সুদীপ, কাকলি এবং এনসিপিআই-এর অন্যান্য সাংসদের। এই বৈঠক আগেই হওয়ার কথা থাকলেও রাজ্য সরকারের ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে তা পিছিয়ে যায়। সুদীপ জানিয়েছেন, সাংসদদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তোলার বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনডিএ-র বৈঠকে সুদীপ ঐক্যের বার্তা দিলেও তিন সাংসদের অনুপস্থিতি সহজে উপেক্ষা করার মতো নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে জল্পনা চলছে, এই ঘটনা সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হলেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ দলটির ২০ সাংসদ এখনও লোকসভার নথিতে এনসিপিআই সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সরকারি নথিতে তাঁরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবেই তালিকাভুক্ত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?