এক বছর পর ছোটপর্দায় ফিরছেন সুভদ্রা!
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের দিনটি সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের জীবনে এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে গিয়েছিল। আচমকাই স্বামী ফিরোজ়কে হারানো—তার পর থেকে যেন জীবনটা সাদা-কালো হয়ে গেছে। এক বছর ধরে নিজেকে সব কিছু থেকে আলাদা রেখেছিলেন তিনি।
এবার সেই দীর্ঘ বিরতির পর ছোটপর্দায় ফিরলেন সুভদ্রা। এক বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও মনটা এখনও শান্ত নয়। অভিনেত্রী জানালেন, “এই সময়ে খুব মন খারাপের বিষয়গুলো নিয়ে ভুগেছি। কাজের জন্য ফিরে আসা সহজ নয়, তবে মেয়ের উৎসাহ আমাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”
ছোটপর্দায় তাঁর নতুন যাত্রা ‘আমাদের দাদামণি’ ধারাবাহিকে। তবে নতুন চরিত্র নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে রাজি নন সুভদ্রা। তিনি বলেন, “নিন্নি চিন্নি প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করছি। আমার দুই মেয়ে খুব মিষ্টি এবং বড়দের সম্মান করতে জানে। সবার ভালবাসাতেই আবার ফিরছি ছোটপর্দায়।”
এই কঠিন সময়ের মধ্যে তাঁর পাশে ছিলেন মেয়ে। সুভদ্রা যোগ করলেন, “ভাল লাগছিল না কিছু। মেয়েই আমায় আবার কাজে ফিরতে বলেছে। তাই আমি ফিরলাম। বহু অনুরাগীও আমার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের জন্যই কাজ শুরু করেছি। তবে প্রথম দিনেই ছবি তুলিনি, কাউকে পাঠাইনি। স্বামী ফিরোজ়ের স্মৃতি এখনও আমার কাছে প্রতিটি মুহূর্তে জীবন্ত।”
এবারের পুজোর জন্যও স্বামী ফিরোজ়ের কিছু বিশেষ ইচ্ছা রয়েছে তাঁর মনে। ৩০ সেপ্টেম্বর স্বামীর পছন্দের জায়গা—হায়দরাবাদ, বর্ধমান, কলকাতা, মুম্বই—সেখানে দরিদ্র মানুষ ও অনাথ শিশুর যত্ন ও খাবারের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। যদিও একদিনে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব নয়, আপাতত কলকাতা ছাড়া বর্ধমানে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।
সুভদ্রার ফিরে আসা শুধুই কাজের জন্য নয়, এটি তাঁর জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। মেয়ের উৎসাহ, অনুরাগীদের ভালোবাসা আর স্বামীর স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে সুভদ্রা নতুন শক্তি খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর এই ছোটপর্দায় ফেরা শুধু অভিনয় জগতের জন্যই নয়, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্যও একটি মানসিক পুনর্জন্মের মতো।
সুভদ্রার ছোটপর্দায় ফেরা প্রমাণ করছে, ব্যক্তিগত বিপর্যয় থাকলেও পরিবারের সমর্থন আর অনুরাগীর ভালোবাসা মানুষের জীবনে নতুন শক্তি এনে দিতে পারে। মেয়ের জন্য, স্বামীর স্মৃতির জন্য এবং নিজের জন্য সুভদ্রা আবার শুরু করেছেন নতুন পথ, নতুন অধ্যায়।
অল্পেই প্রাচুর্য: নিজস্ব নিয়মে ত্বকচর্চায় আগ্রহী বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়