জনমত যাচাইয়ের উদ্যোগ নিল জেপিসি!
ভারতে ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও, নরেন্দ্র মোদী সরকার ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় এই সংক্রান্ত একটি বিল পেশ করে। বিলটির পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য গঠিত হয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)। এবার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নিতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করতে চলেছে জেপিসি।
জনমত যাচাইয়ে নতুন উদ্যোগ
বিজেপি সাংসদ ও জেপিসির চেয়ারম্যান পিপি চৌধরি জানিয়েছেন যে, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতেই এই ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হোক। তাই সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ।”
কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ ও বিরোধীদের আপত্তি
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকরের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদে ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল সংসদের নিম্নকক্ষে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল-সহ এই বিল উপস্থাপন করেন।
এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানের ৮৩, ১৭২ ও ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি—এই বিষয়ে কঠোর আপত্তি জানায় এবং ভোটাভুটির দাবি তোলে। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিতর্কের আগে ভোটাভুটি করতে হয়।
সংসদে ভোটাভুটির ফলাফল
বিলটি নিয়ে সংসদে ভোটাভুটি হলে সরকারপক্ষের ২৬৯ জন সাংসদ পক্ষে এবং ১৯৮ জন সাংসদ বিপক্ষে ভোট দেন। এই ভোটাভুটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম এবং পরে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের যৌথ কমিটিতে এই বিলের বিস্তারিত পর্যালোচনার পরামর্শ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ ডিসেম্বর যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) গঠন করা হয়।
কঠিন পথের সামনে কেন্দ্র
সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানোর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অর্থাৎ,
- লোকসভায় কমপক্ষে ৩০৭ জনের সমর্থন
- রাজ্যসভায় কমপক্ষে ১৫৮ জনের সমর্থন লাগবে।
কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদী সরকারের কাছে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে এই বিল বাস্তবায়ন করতে হলে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। তবে বিরোধীরা এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় কেন্দ্র এখন ‘ধীরে চলো’ নীতিতে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কীভাবে মতামত দেওয়া যাবে?
জেপিসির নতুন ওয়েবসাইট চালু হলে দেশের যে কেউ নিজের মতামত জানাতে পারবেন। ভোটার, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামত বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করবে জেপিসি, যা ভবিষ্যতে বিলের সংশোধনে কাজে লাগতে পারে।
শেষ কথা
‘এক দেশ এক ভোট’ নীতিটি ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না, কারণ এটি সাংবিধানিক সংশোধন ও রাজনৈতিক সমর্থনের উপর নির্ভরশীল। সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে সরকার কতটা এগোতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে