এক খুনের সুপারি, ছয় ‘খুনি’ আর শেষে পুলিশের জালে সবাই!
বাস্তবে এমন ঘটনাও ঘটতে পারে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। একজন ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বীকে খুন করাতে ভাড়াটে খুনি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই খুনি আবার অন্য এক খুনিকে দায়িত্ব দিল। এ ভাবে হাতবদল হতে হতে খুনের ‘সুপারি’ পৌঁছে যায় মোট ছয় জনের কাছে। শেষ পর্যন্ত কেউই খুন করেনি, বরং পুরো ষড়যন্ত্রই ফাঁস হয়ে যায় পুলিশের কাছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে চিনে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ট্যান ইউহুইয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী ওয়েইয়ের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ওয়েই ট্যানের সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ট্যান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এই উদ্দেশ্যে তিনি শি গুয়ানআঙ নামে এক সুপারি কিলারকে প্রায় ২০ লক্ষ ইউয়ান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু শি নিজে খুনের ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। তিনি দায়িত্ব দিয়ে দেন মো তিয়ানশিয়াং নামে আর এক ভাড়াটে খুনিকে। বিনিময়ে তাঁকে দেওয়া হয় ১০ লক্ষ ইউয়ান।
এরপর শুরু হয় একের পর এক হাতবদলের অদ্ভুত কাহিনি। মো আবার দায়িত্ব দেন ইয়াং কাশংকে। ইয়াং তা ঠেলে দেন ইয়াং গুশাংয়ের হাতে। গুশাং আবার লিং সিয়ানসিকে দায়িত্ব দেন। প্রত্যেকে আগের জনের কাছ থেকে কম টাকা নিয়ে পরের জনকে আরও কম টাকার বিনিময়ে কাজটি করতে বলেন। ফলে খুনের সুপারি যেমন এগিয়েছে, তেমনই কমেছে পারিশ্রমিকও।
শেষ ব্যক্তি লিং সিয়ানসি অবশ্য অন্য পথ বেছে নেন। তিনি খুন না করে সরাসরি ওয়েইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দু’জনে মিলে এমন একটি পরিকল্পনা করেন, যাতে সবাই বিশ্বাস করে ওয়েই খুন হয়েছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়েইয়ের হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুঁজে কয়েকটি ছবি তোলা হয়। সেই ছবিই প্রমাণ হিসেবে পাঠানো হয় আগের সুপারি কিলারের কাছে। এরপর ওয়েই প্রায় এক সপ্তাহ আত্মগোপন করে থাকেন, যাতে সবাই মনে করে তিনি সত্যিই মারা গিয়েছেন।
কিন্তু সপ্তাহখানেক পর নাটকীয় মোড় আসে। ওয়েই নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে গোটা ষড়যন্ত্রের কথা খুলে বলেন। তদন্ত শুরু করে পুলিশ ট্যান ইউহুই-সহ এই খুনের চক্রে জড়িত পাঁচ ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করে।
পরে আদালত ট্যানকে খুনের ষড়যন্ত্রের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। অন্য অভিযুক্তদেরও দুই থেকে চার বছরের জেল হয়।
চিনের এই ঘটনা আজও বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত অপরাধকাহিনি হিসেবে আলোচিত। কারণ, যেখানে একজনের খুন করার কথা ছিল, সেখানে দায়িত্ব ঘুরতে ঘুরতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শেষ পর্যন্ত কেউই খুন করতে রাজি হননি। বরং সেই ব্যর্থ ‘সুপারি চক্র’-ই শেষ পর্যন্ত সবাইকে পৌঁছে দেয় জেলের অন্দরে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?