ব্রাজিলের ট্র্যাজিক নায়ক মোয়াসির বারবোসার হৃদয়বিদারক কাহিনি!
ফুটবল ইতিহাসে অনেক গোলরক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুল করেছেন। কিন্তু সেই একটি ভুলের জন্য গোটা জীবন ধরে ঘৃণা, অপমান আর একঘরে হয়ে থাকার শাস্তি খুব কম মানুষকেই ভোগ করতে হয়েছে। ব্রাজিলের কিংবদন্তি গোলরক্ষক মোয়াসির বারবোসার জীবন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
১৯৪৫ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় বারবোসার। তাঁর অসাধারণ গোলরক্ষণের নৈপুণ্যে ১৯৪৯ সালের কোপা আমেরিকা জেতে ব্রাজিল। সে সময় তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসেবেই ধরা হতো। কিন্তু মাত্র একটি ম্যাচ বদলে দেয় তাঁর গোটা জীবন।
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল ব্রাজিল। সে সময় বর্তমানের মতো নকআউট পর্ব ছিল না। শেষ পর্বে চারটি দল রাউন্ড-রবিন ভিত্তিতে খেলত এবং সর্বাধিক পয়েন্ট পাওয়া দলই চ্যাম্পিয়ন হতো। শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র করলেই বিশ্বকাপ জিতে যেত ব্রাজিল।
রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রায় দুই লক্ষ দর্শকের সামনে প্রথমে এগিয়েও গিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে উরুগুয়ে পরপর দুটি গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। দ্বিতীয় গোলটি ঠেকাতে পারেননি বারবোসা। আর সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি দেশের মানুষের চোখে ‘খলনায়ক’ হয়ে ওঠেন।
পরাজয়ের সমস্ত দায় একা তাঁর কাঁধে চাপিয়ে দেয় অনেক সমর্থক ও সংবাদমাধ্যম। জনসমক্ষে অপমান, কটূক্তি, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও শুনতে হয়েছিল তাঁকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, স্ত্রীকে নিয়ে শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন তিনি। তবুও অতীতের সেই ম্যাচ তাঁকে কখনও ছাড়েনি।
এক সাক্ষাৎকারে বারবোসা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ব্রাজিলে খুনের মতো অপরাধেরও সর্বোচ্চ শাস্তি ৩০ বছর, অথচ একটি গোল আটকাতে না পারার ‘অপরাধে’ তিনি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাস্তি ভোগ করছেন। তাঁর এই মন্তব্য আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম মর্মস্পর্শী উক্তি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আরও বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে পরে। যে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে তিনি সেই বিতর্কিত গোল হজম করেছিলেন, সেটি একসময় স্টেডিয়াম থেকে সরানো হলে বারবোসা সেটি নিজের কাছে নিয়ে আসেন। অতীতের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় পরে সেই গোলপোস্টের কাঠে আগুন লাগিয়ে দেন। কিন্তু মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি আর মেলেনি।
১৯৯০-এর দশকে ব্রাজিল জাতীয় দলের অনুশীলন দেখতে স্টেডিয়ামে গেলেও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে প্রবেশ করতে দেননি। অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি দলের জন্য ‘অপয়া’। এই অপমান তাঁকে আরও ভেঙে দেয়।
শেষ জীবনে তিনি রিও ছেড়ে অন্য শহরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে কিছু মানুষ তাঁকে শুধুমাত্র ১৯৫০ সালের সেই ম্যাচের জন্য নয়, একজন দুর্দান্ত গোলরক্ষক হিসেবেও মনে রেখেছিলেন। ২০০০ সালে ৭৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও মোয়াসির বারবোসার জীবন আজও মনে করিয়ে দেয়— কখনও কখনও খেলাধুলার হার-জিতের মূল্য একজন মানুষকে সারা জীবন ধরে চুকিয়ে দিতে হয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?