একজন পুরুষকে চড় মেরেছিলাম, যিশুদা শুনে অবাক!

একজন পুরুষকে চড় মেরেছিলাম! ১৫ মার্চ, শনিবার যিশু সেনগুপ্তর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে, তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমার স্মৃতিচারণ করছি আমি, শোলাঙ্কি রায়। যিশুদাকে নিয়ে লিখতে গেলে আমাকে একটু পেছনে…

March 15, 2025
1 min read

একজন পুরুষকে চড় মেরেছিলাম!

১৫ মার্চ, শনিবার যিশু সেনগুপ্তর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে, তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সিনেমার স্মৃতিচারণ করছি আমি, শোলাঙ্কি রায়।

যিশুদাকে নিয়ে লিখতে গেলে আমাকে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। কারণ, আমার প্রথম ছবির নায়ক ছিলেন তিনিই। ভাবলে এখনও অবাক লাগে! ‘বাবা, বেবি ও’ ছবির সুবাদে আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছিল।

আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকেই তাঁর অভিনয় দেখেছি। এত সুদর্শন অভিনেতা! একসময় তো আমি ওঁর বিশাল ভক্ত ছিলাম। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দেখা হলেও কখনও তেমন কথা হয়নি। কিন্তু যখন জানলাম, আমার প্রথম ছবিতে আমার বিপরীতে তিনিই অভিনয় করবেন, তখন তো বিশ্বাসই করতে পারিনি! ছোটবেলার স্মৃতিগুলো হঠাৎ করে যেন আবার ফিরে এল।

শুটিংয়ের সময়েই তাঁকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারি। যিশুদা প্রচণ্ড হাসিখুশি মানুষ, সবাইকে নিয়ে আড্ডা দিতে ভালোবাসেন। আমি তখন নতুন, তার ওপর উইন্ডোজ়-এর মতো বড় প্রযোজনা সংস্থার ছবি— সব মিলিয়ে ভীষণ নার্ভাস ছিলাম। সেটে শুরুর দিকে খুব চুপচাপ থাকতাম। কিন্তু যিশুদা এত বড় অভিনেতা হয়েও আমাকে কখনও সেটা বুঝতে দেননি। বরং মজার ছলে আমায় স্বচ্ছন্দ করে তুলেছিলেন।

শুটিংয়ের সময় আমরা সবাই— অরিত্র (পরিচালক অরিত্র মুখোপাধ্যায়), গৌরব (গৌরব চট্টোপাধ্যায়), বিদীপ্তাদি (বিদীপ্তা চক্রবর্তী)— প্রচুর আড্ডা দিয়েছি। একটা বিশেষ ঘটনার কথা মনে পড়ছে। একদিন শুটিংয়ে যাওয়ার পথে দু’জন ছেলে আমার গাড়ি আটকে দেয়। বুঝতে পারি, তারা মদ্যপ অবস্থায় আছে। তাদের মধ্যে একজন খুব খারাপ ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। আমি জীবনে মাত্র দু’জনকে চড় মেরেছি, তার মধ্যে একজন এই ছেলেটি!

তারপর ফ্লোরে পৌঁছে আমি খুব চুপচাপ ছিলাম। সবাই আমার চেহারা দেখে বুঝতে পারছিল কিছু একটা ঘটেছে। যখন ঘটনাটা বললাম, যিশুদা অবাক হয়ে বললেন, “কী? তুই চড়ও মেরেছিস!” এরপর অনেকদিন ধরে তিনি আমাকে এই নিয়ে মজা করতেন। আসলে দাদা বুঝতে পেরেছিলেন, আমার মন খারাপ। তাই আমায় সহজ করতেই এমন করছিলেন। আমিও অবশেষে হেসে ফেলেছিলাম। তবে এটুকু নিশ্চিত, আমি যে কাউকে চড় মারতে পারি, বিশেষ করে কোনও পুরুষকে, সেটা যিশুদা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না!

এখন অবশ্য আমাদের যোগাযোগ কমে গেছে। এর মধ্যে দেখাও হয়নি। কারণ, দাদা এখন বেশিরভাগ সময় বলিউড এবং দক্ষিণী প্রজেক্টের কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে মাঝেমাঝে মনে হয়, ‘বাবা, বেবি ও’-র সিক্যুয়েল হলে কেমন হতো! যদি প্রযোজনা সংস্থা এবং পরিচালক রাজি হন, তাহলে আমিও রাজি। আবার একসঙ্গে কাজ করার আনন্দ পাওয়া যেত!

জন্মদিনে যিশুদার জন্য শুভকামনা রইল। তিনি আরও ভালো কাজ করুক, আমাদের আরও সুন্দর সিনেমা উপহার দিক। আর আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি আমাদের দেখা হবে, আর একসঙ্গে নতুন কোনও কাজ করব!

দোলে তারকাদের মতো সাজুন: রঙের উৎসবে ফ্যাশনের ছোঁয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *