সাক্ষী-প্রিয়াদের সাফল্যের মাঝেও লভলিনার আক্ষেপ!
কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জন্য শনিবারটি স্মরণীয় হয়ে রইল। বক্সিং রিংয়ে একের পর এক সোনা জিতে নজির গড়লেন ভারতীয় বক্সারেরা। দিনের শুরুতে প্রীতি পাওয়ার ও জৈস্মিন লম্বোরিয়ার সাফল্যের পর বিকেলে সোনা জয়ের মিছিলে যোগ দেন সাক্ষী চৌধরি, প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস, অরুন্ধতী চৌধরি, সচিন সিবচ এবং অঙ্কুশ পানঘাল। তবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই, যিনি ফাইনালে হেরে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হন।
দিনের প্রথম বড় সাফল্য আসে ৫১ কেজি বিভাগে। ফাইনালে ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে তিন রাউন্ডেই ছন্দময় বক্সিং উপহার দিয়ে হারান সাক্ষী চৌধরি। প্রথম থেকেই নিখুঁত জ্যাব, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছন্দ জয় তুলে নিয়ে ভারতের সোনার সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।
এরপর ৬০ কেজি বিভাগে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সোনা জেতেন প্রিয়া ঘাঙ্ঘাস। কানাডার মারি আল-আহমাদির বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে পড়লেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করেন ভারতীয় বক্সার। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ম্যাচ নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে সোনা নিশ্চিত করেন। তাঁর জয়ের সঙ্গে বক্সিংয়ে ভারতের আরেকটি ঐতিহাসিক সাফল্য যোগ হয়।
৭০ কেজি বিভাগে অরুন্ধতী চৌধরিও দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন। ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রেডকে তিন রাউন্ডেই ছাপিয়ে গিয়ে সোনা জিতে নেন তিনি। নিখুঁত কৌশল, দ্রুত গতি এবং ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে প্রতিপক্ষের কোনও উত্তর ছিল না।
তবে দিনের সবচেয়ে বড় হতাশার নাম লভলিনা বরগোঁহাই। ৭০ কেজি বিভাগের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা সু গ্রিনট্রির বিরুদ্ধে প্রথম রাউন্ডেই পিছিয়ে পড়েন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরালেও শেষ রাউন্ডে প্রতিপক্ষের গতিময় ফুটওয়ার্ক ও ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে ছন্দ হারান। বিচারকদের রায়ে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই থামতে হয় অভিজ্ঞ ভারতীয় বক্সারকে।
পরে ৬০ কেজি বিভাগে সচিন সিবচ এবং ৮০ কেজিতে অঙ্কুশ পানঘাল সোনা জিতে ভারতের পদকভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করেন। তবে দিনের শেষ ফাইনালে নরেন্দ্র হেরে যাওয়ায় তাঁকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
দিনের শুরুতেই সোনা জিতেছিলেন প্রীতি পাওয়ার ও জৈস্মিন লম্বোরিয়া। ৫৪ কেজি বিভাগে প্রীতি মেক্সিকোর স্কারলেট সাভানা ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে হারান। শক্তিশালী ব্যাকহ্যান্ড, নিখুঁত আপারকাট এবং দারুণ ফুটওয়ার্কে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখেন তিনি। অন্যদিকে ৫৭ কেজি বিভাগে জৈস্মিন একই ব্যবধানে হারান উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞ মিকায়েলা ওয়ালশকে।
শুধু বক্সিং নয়, ট্রিপল জাম্পেও ভারতের সাফল্য আসে। প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপো জেতেন, আর ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ পান সেলভা প্রভু।
প্যারা অ্যাথলেটিক্সেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করেন ভারতীয়রা। এফ৫৭ শটপুটে ১৩.৪০ মিটার নিক্ষেপ করে সোনা জেতেন সোমন রানা। একই ইভেন্টে ১৩.২৮ মিটার ছুড়ে রুপো পান শুভম জুয়াল।
জুডোতেও ভারতের পদকযাত্রা অব্যাহত থাকে। উন্নতি শর্মা ব্রোঞ্জ জেতেন, ফলে জুডোয় ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়ায় চার। এর আগে হর্ষ সিংহ ও অস্মিতা দে সোনা এবং যামিনী মৌর্য রুপো জিতেছেন। রবিবার আরও কয়েকটি পদকের আশা রয়েছে ইশরুপ নারাং, অবতার সিংহ ও যশ ঘাঙ্ঘাসকে ঘিরে।
দিন শেষে ভারতের ঝুলিতে ছিল ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৮টি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে থেকে ভারত আরও সাফল্যের লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।