ঋতুস্রাবের সময় রক্তদান কি নিরাপদ?
রক্তদান মানেই শুধুই অন্যের জীবন বাঁচানো নয়— নিজের শরীরের পক্ষেও এটি একেবারে উপকারী অভ্যাস। তা সত্ত্বেও রক্তদান নিয়ে এখনও বহু মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা কাজ করে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়— ঋতুস্রাব চলাকালীন কি রক্তদান করা ঠিক? এতে কি শরীরের ক্ষতি হতে পারে?
চলুন, চিকিৎসকদের মতামত অনুযায়ী এই বিষয়টি সহজ করে বুঝে নেওয়া যাক।
সাধারণত এক জন দাতার শরীর থেকে একবারে প্রায় এক ইউনিট (৪৫০–৫০০ মিলিলিটার) রক্ত নেওয়া হয়। অনেকের আশঙ্কা, এতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু বাস্তবে সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে রক্তদানের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীর সেই ঘাটতি পূরণ করে নেয়। তাই রক্তদান নিজেই কোনও ক্ষতিকর প্রক্রিয়া নয়।
রক্তদানের আগে অবশ্যই কিছু স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা দাতার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, রক্তচাপ, ওজন ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেন। লক্ষ করার বিষয় হল— এই তালিকায় কোথাও ঋতুস্রাব থাকার বিষয়টি বাধা হিসেবে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ, একজন সুস্থ মহিলা, যার হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক, তিনি ঋতুস্রাব চলাকালীনও রক্তদান করতে পারেন।
অনেকে মনে করেন, মাসিকের সময় শরীর থেকে তো এমনিতেই রক্ত বেরোয়— তার উপর আবার রক্ত দিলে বড় ক্ষতি হবে। বাস্তবে ঋতুস্রাব চলাকালীন শরীর থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৮০ মিলিলিটার রক্তক্ষরণ হয়। তুলনায় রক্তদানের সময় নেওয়া রক্তের পরিমাণ বেশি হলেও, শরীর তা সামলে নিতে সক্ষম। চিকিৎসকদের মতে, হিমোগ্লোবিন ঠিক থাকলে এবং দাতা সুস্থ থাকলে মাসিকের সময় রক্তদান করলে শরীরের মারাত্মক কোনও ক্ষতি হয় না।
তবে একটি সতর্কতার জায়গা অবশ্যই রয়েছে। যাঁদের ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, খুব দুর্বল লাগে, মাথা ঘোরে বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রক্তদানের আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজের শরীরের সংকেতকে অবহেলা করা কখনওই ঠিক নয়।
আর একটি ভুল ধারণা হল— ঋতুস্রাব চলাকালীন রক্তদান করলে নাকি রক্তের গুণমান খারাপ হয়। চিকিৎসকেরা পরিষ্কার করে জানাচ্ছেন, রক্ত সংগ্রহ করা হয় বাহুর শিরা থেকে। এর সঙ্গে প্রজননতন্ত্র বা ঋতুস্রাবের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। উপরন্তু, রক্ত সংগ্রহের পর তা কঠোরভাবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পরেই রোগীকে দেওয়া হয়। তাই এ বিষয়ে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঋতুস্রাব কোনও রোগ নয়, আর এই সময় রক্তদান করাও নিষিদ্ধ নয়। শরীর সুস্থ থাকলে এবং প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করলে একজন মহিলা মাসিকের সময়ও নিশ্চিন্তে রক্তদান করতে পারেন। সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই পারে অযথা ভয় কাটাতে— আর হয়তো আপনার এক ইউনিট রক্তই হয়ে উঠতে পারে কারও জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা