উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ
মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী উদ্যাপনের পরিকল্পনা শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতার অভিনয়জীবন, শিল্পভাবনা এবং সাংস্কৃতিক অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি। এই কমিটি শুধু অনুষ্ঠান আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গবেষণা, সংরক্ষণ এবং নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের রূপরেখাও তৈরি করবে।
কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্বে থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক সন্দীপ রায়, কার্যকরী সভাপতি হিসেবে থাকছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের সচিব সৌমিত্র মোহন।
এই উদ্যোগ নিয়ে অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য, উত্তমকুমার শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ছিলেন না, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। রুদ্রনীলের মতে, বর্তমান উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রের সেই স্বর্ণযুগের কর্মপরিবেশ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক আলোচনার আবহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এই উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শিল্পী, পরিচালক ও সংস্কৃতি জগতের মানুষের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি, বিষয়টি নিয়ে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এর আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই আলোচনায় মহানায়কের উত্তরাধিকারকে কীভাবে সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উদ্যোগে পরিণত করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপদেষ্টা কমিটিতে টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে রাখা হয়েছে। অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন দেব, জিৎ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং গৌরব চট্টোপাধ্যায়। পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়-সহ আরও বহু বিশিষ্ট নাম। এছাড়াও শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমিক হালদার, জয়ন্ত কুন্ডু এবং প্রেমেন্দুবিকাশ চাকীর মতো চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বও এই কমিটির সদস্য।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিটির পরিকল্পনার মধ্যে থাকবে উত্তমকুমারকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রদর্শনী, স্মারক প্রকাশনা, তাঁর স্মৃতিবিজড়িত উপকরণের সংরক্ষণ, গবেষণামূলক কাজ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনকেও এই বছরব্যাপী উদ্যাপনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মহানায়কের শিল্পসাধনা এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।