উচ্চ মাধ্যমিক অঙ্ক পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক!
উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর মিলল পরীক্ষার্থীদের জন্য। পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসার অভিযোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে শিক্ষা সংসদ। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে— যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী ওই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের পুরো নম্বর দেওয়া হবে।
কী ঘটেছিল?
পরীক্ষা শেষ হতেই বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ তোলে, প্রশ্নপত্রে কয়েকটি এমন প্রশ্ন ছিল যা নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নয়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, মোট তিনটি প্রশ্ন সত্যিই সিলেবাসের বাইরে থেকে এসেছে। এর মধ্যে একটি অবকল সমীকরণ (ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন) অংশের প্রশ্ন ছিল, যা প্রচলিত পাঠ্যবইয়েও পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত নয় বলে উল্লেখ রয়েছে।
এই তিনটি প্রশ্নের মোট পূর্ণমান ছিল ১০ নম্বর—
- একটি প্রশ্নের মান ২
- বাকি দু’টি প্রশ্নের মান ৪ করে
ফলে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সংসদের সিদ্ধান্ত কী?
সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
👉 যারা ওই প্রশ্নগুলির উত্তর লিখেছে, তারা প্রত্যেকেই পূর্ণ নম্বর পাবে।
👉 মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনও পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘোষণার ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আরও কী অভিযোগ উঠেছে?
তবে সমস্যা শুধু সিলেবাস-বহির্ভূত প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়। বহু ছাত্রছাত্রীর দাবি, প্রশ্নপত্রের কয়েকটি অংশ এতটাই সময়সাপেক্ষ ছিল যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, উত্তরপত্রের সীমাবদ্ধ জায়গার মধ্যেও সব প্রশ্ন সম্পূর্ণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
শিক্ষামহলের একাংশও এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। এতে শুধু ফলাফল নয়, পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপও বেড়ে যায়।
শিক্ষকদের মত কী?
অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, অঙ্ক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন নির্ধারণে সূক্ষ্ম যাচাই অত্যন্ত জরুরি। কারণ, একটি ছোট ভুলও হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর উপর প্রভাব ফেলে। তাঁদের মতে, ভবিষ্যতে প্রশ্ন তৈরির আগে বহুস্তরীয় যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্ত করা দরকার।
পরীক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সংসদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—
✔ কোনও ছাত্রছাত্রী নম্বরের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না
✔ মূল্যায়নে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল— পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে নির্ভুলতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় দ্রুত সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতাও যে রয়েছে, সেটিও এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই