উচ্চ মাধ্যমিকে আরএফডি
২০২৫ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাকে সামনে রেখে আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা সংসদ। পরীক্ষার সময় যাতে কোনো রকমের অশান্তি বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এবার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নতুন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। এবার থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে বসানো হবে রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর (আরএফডি) এবং সমস্ত স্কুলকে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছর শিক্ষা সংসদ সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসতর্কতা না ঘটে। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত স্পর্শকাতর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল, সেখানে নিরাপত্তা বাড়াতে মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, এরপরেও কিছু জায়গায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে যেন এমন কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য এবারে আরও জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক জানিয়েছেন, “প্রত্যেক বছরই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার চেষ্টা করি। গত বছর সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক ছিল, আর এ বছর আমরা মেটাল ডিটেকটর রাখার অনুরোধ করেছি স্কুলগুলিকে।”
কীভাবে কাজ করবে উচ্চ মাধ্যমিকে আরএফডি ডিভাইস?
আরএফডি (রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর) হলো একটি ছোট যন্ত্র যা পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় তার সঙ্গে কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট (যেমন মোবাইল ফোন বা অন্য যেকোনো ধরনের ডিভাইস) নিয়ে এসেছেন কি না, তা খুব সহজেই শনাক্ত করতে পারবে। এই ডিভাইসটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পরীক্ষার্থীরা যদি কোনো ধরনের গ্যাজেট নিয়ে প্রবেশ করেন, তাহলে তা ধরে ফেলতে পারে। এর আগে কিছু পরীক্ষায় পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রতিবছরের মতো, এবারও স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে এই ডিভাইস ব্যবহার হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আরএফডি যন্ত্র তুলে দেওয়ার জন্য ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিটি জেলার কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন কেন্দ্রগুলোতে আরএফডি বসানো হবে, তা ঠিক করা হবে।
মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে
গত বছর থেকে মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। এই বছর প্রায় আড়াই হাজার পরীক্ষাকেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। কলেজিয়াম অফ অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেসের সাধারণ সম্পাদক সৌদিপ্ত দাস বলেছেন, “আমরা এই উদ্যোগকে সমর্থন করি। বড় জাতীয় পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের প্রথমে শরীর স্ক্যানিং করা হয়, তারপর তারা পরীক্ষার জন্য প্রবেশ করতে পারে।”
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৫-এর ৩ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে। গত বছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কিউআর কোড ব্যবহারসহ আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, যা এই বছরও অব্যাহত থাকবে। শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর শিক্ষা সংসদ, যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনো প্রকার অসুবিধা বা বিশৃঙ্খলা না হয়।
এই নতুন ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে তাঁরা নিজের সর্বোচ্চ প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারেন।