উইম্বলডনে বড় অঘটন!
মাত্র এক মাস আগে ফরাসি ওপেন জিতে কেরিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা তুলে নিয়েছিলেন মীরা আন্দ্রিভা। কিন্তু সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলেন না রুশ তরুণী। উইম্বলডনের দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাঁর অভিযান থামিয়ে দিলেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন বারবোরা ক্রেচিকোভা। তিন সেটের লড়াইয়ে ৪-৬, ৭-৫, ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিলেন চেক টেনিস তারকা।
এবারের উইম্বলডনে অবাছাই হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন ক্রেচিকোভা। গত বছরের শিরোপা জয়ের পর ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করতে না পারায় তাঁর র্যাঙ্কিং নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, ফরাসি ওপেন জয়ের সুবাদে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা আন্দ্রিভা ছিলেন পঞ্চম বাছাই। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডেই দুই গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি লড়াই দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল আন্দ্রিভার দখলে। প্রথম সেট জিতে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ক্লে কোর্টের দুরন্ত ফর্ম ঘাসের কোর্টেও ধরে রাখতে প্রস্তুত। তবে ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই নিজের অভিজ্ঞতা ও ঘাসের কোর্টে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন ক্রেচিকোভা। ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে এনে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
পরিসংখ্যানও ক্রেচিকোভার আধিপত্যেরই প্রমাণ দেয়। পুরো ম্যাচে তিনি করেন ৯টি এস, যেখানে আন্দ্রিভার ঝুলিতে ছিল ৪টি। সার্ভিস ভাঙার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিলেন চেক খেলোয়াড়। আন্দ্রিভার সার্ভিস পাঁচবার ব্রেক করেন তিনি, আর আন্দ্রিভা ক্রেচিকোভার সার্ভিস ভাঙতে সক্ষম হন চারবার।
তৃতীয় সেটে অবশ্য দারুণ লড়াই করেন ১৯ বছরের আন্দ্রিভা। এক সময় নিজের সার্ভিস গেমে ০-৪০ পিছিয়ে পড়েছিলেন। আর একটি পয়েন্ট পেলেই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতেন ক্রেচিকোভা। কিন্তু সেখান থেকেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে গেমটি জিতে নেন আন্দ্রিভা। সেই লড়াকু মানসিকতা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, ফরাসি ওপেনের মতো আরও একটি নাটকীয় প্রত্যাবর্তন হয়তো অপেক্ষা করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি। অভিজ্ঞ ক্রেচিকোভা চাপ সামলে ম্যাচ জিতে তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি ক্রেচিকোভা। তিনি বলেন, “মীরার বিরুদ্ধে এটা আমার পঞ্চম ম্যাচ। ও এখনও খুবই তরুণ, কিন্তু অসাধারণ প্রতিভাবান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ও লড়াই করেছে। ওর ভবিষ্যৎ নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল।”
হারলেও এই ম্যাচে আন্দ্রিভার লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে উইম্বলডনের মঞ্চে তাঁর যাত্রা প্রত্যাশার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?