ইসলামাবাদে ‘আগুন ঝরানো’ তেহরিক-ই-লাব্বাইক কারা?
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন রণক্ষেত্র। কট্টরপন্থী দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (TLP)-এর সহিংস মিছিল যেন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের গুলি, জনতার প্রতিরোধ— সব মিলিয়ে জ্বলছে ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট। কিন্তু প্রশ্ন একটাই — কারা এই তেহরিক-ই-লাব্বাইক, এবং কেন তারা এত ভয়ঙ্কর?
🔥 তেহরিক-ই-লাব্বাইকের জন্ম ও উত্থান
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠা | ১ অগস্ট, ২০১৫, করাচি |
| প্রতিষ্ঠাতা | খাদিম হুসেন রিজ়ভি |
| মূল মতবাদ | শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, ইসলামীয় আইন কঠোর প্রয়োগ |
| সদর দফতর | লাহৌর, পঞ্জাব প্রদেশ |
| রাজনৈতিক প্রতীক | ক্রেন (Crane) |
| বর্তমান প্রধান | সাদ রিজ়ভি |
মাত্র ৭৫ জন সদস্য নিয়ে শুরু হলেও, এখন এটি পাকিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। মূলত বেরেলভি ইসলামি আন্দোলন থেকে উৎসারিত এই সংগঠন আজ ইসলামাবাদে ভয়ঙ্কর শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
💣 সহিংসতার রাজনীতি
২০২১ সালের বেরেলভি আন্দোলন-এর সময়ই প্রথম টিএলপি আন্তর্জাতিক শিরোনামে উঠে আসে। ইসলামাবাদ ও লাহৌরের রাস্তায় কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ, এমনকি গুলিও চলে।
২০২৫ সালেও ইতিহাস যেন ফিরে এসেছে — ইজ়রায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে আমেরিকার শান্তিপ্রস্তাবের বিরোধিতায় ইসলামাবাদে মিছিল করে তারা। মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট বন্ধ— সব মিলে পাকিস্তান কার্যত অচল।
⚙️ সেনার ‘রাজনৈতিক খেলা’
বিশ্লেষকদের মতে, পাক সেনাই একসময় তৈরি করেছিল টিএলপি-কে, যেন ইসলামাবাদের রাজনীতিতে প্রভাব রাখা যায়।
মানবাধিকার কর্মী আরিফ আজ়াকিয়া বলেন,
“টিএলপি পাকিস্তানের সেনার তৈরি এক ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’। সেনা চাইলে একে সক্রিয় করে, আবার চাইলে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।”
নওয়াজ শরিফ, ইমরান খান— দুই সরকারকেই এই দলকে ঘিরে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।
🧭 মতাদর্শ বনাম বাস্তবতা
| নীতি | বাস্তব প্রয়োগ |
|---|---|
| পশ্চিমবিরোধী ভাবধারা | কিন্তু সক্রিয় টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউবে |
| শরিয়া আইনের কড়াকড়ি দাবি | সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ |
| ধর্মরক্ষার নামে আন্দোলন | রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল |
তাদের দ্বিচারিতা স্পষ্ট— একদিকে পশ্চিমবিরোধী স্লোগান, অন্যদিকে পশ্চিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল প্রচার।
🧩 আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব
ফ্রান্স, ব্রিটেন, ও মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ইন্টারনেট বন্ধ— এসব ইঙ্গিত দেয়, টিএলপি শুধু দেশীয় হুমকি নয়, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণও।
বিশদে জানতে পারেন BBC-এর প্রতিবেদনে।
📌 উপসংহার
তেহরিক-ই-লাব্বাইক আজ পাকিস্তানের রাজনীতিতে এমন এক শক্তি, যাকে একসময় সেনা তৈরি করেছিল নিজের সুবিধার জন্য। কিন্তু এখন সেই ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’-ই যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ইসলামাবাদের আগুন হয়তো নিভবে, কিন্তু পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার ধোঁয়া রয়ে যাবে বহুদিন।