ইতিহাসে ‘শুদ্ধি’র হাওয়ায় নতুন মুখ!
ভারতীয় ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী চরিত্রগুলির গুরুত্ব আরও বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে সঙ্ঘ পরিবার ও বিজেপি। মুঘলবিরোধী হিন্দু শাসকদের নিয়ে এক নতুন ঐতিহাসিক বয়ান গঠনের এই প্রয়াসে এবার সংযোজিত হলেন এক শক্তিশালী নারী শাসক—মহারানি অহল্যাবাই হোলকর। ৩১ মে ২০২৫ তাঁর ৩০০তম জন্মবার্ষিকী, আর তা ঘিরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানা উদ্যাপন, সেমিনার ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি।
ইন্দোরের এই রাজমাতা ছিলেন ১৮ শতকের এক অসাধারণ প্রশাসক এবং জনহিতৈষী শাসক। সাধারণ পরিবারে জন্ম হলেও বিবাহসূত্রে হোলকর বংশে প্রবেশের পর, স্বামী ও পুত্রের মৃত্যুর পরে তিনিই রাজার দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে জর্জরিত সময়েও তিনি কৌশলে এবং প্রজ্ঞায় হোলকর সাম্রাজ্যকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন। যুদ্ধ জয় করে, এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বারাণসীর বিশ্বনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে নিজের স্থান পাকা করেন।
এই ঐতিহাসিক অবদানগুলিকেই সামনে এনে, অহল্যাবাইকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল’। সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদক বিআর শঙ্করানন্দ জানিয়েছেন, অহল্যাবাইয়ের জীবন ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমের নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হবে। শুধু অহল্যাবাই নন—লাচিত বরফুকন, সম্ভাজি রাজে, বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্যদের মতো শাসকদের ইতিহাসেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে একই পন্থায় শিবাজি ও মহারাণা প্রতাপের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলা হয়েছিল। এখন অহল্যাবাইকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করছে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার। পশ্চিমবঙ্গে এই কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। তাঁর কথায়, “এই উদাহরণ দেখিয়ে বোঝানো হবে যে মহিলারাও চাইলেই নেতৃত্বে উঠে আসতে পারেন। অহল্যাবাই সেই যুগে নারীকে নতুনভাবে সংজ্ঞা দিয়েছিলেন।”
সেমিনারগুলিতে অংশ নিচ্ছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ সরকার প্রমুখ। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, “স্কুলে আমরা এইসব ইতিহাস পড়িনি। আমাদের ইতিহাসের বড় অংশ শুধু মুঘলদের ঘিরেই ছিল। অথচ আমাদের নিজের অঞ্চলের বীরদের ইতিহাস ছিল আড়ালে। এখন সেই ইতিহাস ফের সামনে আসছে।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এই বয়ানকে আংশিক সমর্থন করলেও, পাঠ্যক্রম পরিবর্তন নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তাঁর মতে, দেশের ইতিহাস শুধু উত্তর ভারতকে কেন্দ্র করে গড়া হয়েছে, দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শাসকরা অবহেলিত থেকেছেন।
সব মিলিয়ে, অহল্যাবাই হোলকরকে সামনে এনে এক নতুন ঐতিহাসিক বয়ান তৈরির যে প্রয়াস চলছে, তা শুধু স্মরণ বা শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাঠ্যবইয়ে জায়গা করে দেওয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের মঞ্চেই তাঁদের ‘পুনর্প্রতিষ্ঠা’ই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনি চাইলে আমি এই নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন, ইতিহাসবিদদের প্রতিক্রিয়া, বা অহল্যাবাইয়ের অবদান বিশ্লেষণ তৈরি করে দিতে পারি।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!