প্রতীক জৈনের বাড়ি–দফতরের তল্লাশি ঘিরে পরিচয় খোঁজায় তৎপর পুলিশ!
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও দফতরে ইডির হানা— সেই অভিযান ঘিরে এ বার নতুন করে সক্রিয় হল পুলিশ। প্রশ্ন একটাই: ঠিক কোন কোন ইডি আধিকারিক ওই তল্লাশিতে অংশ নিয়েছিলেন? তাঁদের পরিচয় জানতেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাড়ির আবাসিক রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে, অফিসে কারা ঢুকেছিলেন তার তালিকাও মিলিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে ওই দিন ইডির সঙ্গে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পরিচয়ও জানতে চাওয়া হচ্ছে।
সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবারের অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন ইডির এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন আধিকারিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ ইডির কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইমেল পাঠিয়ে ওই দিন উপস্থিত আধিকারিকদের বিস্তারিত পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, তল্লাশির সময় নিরাপত্তায় থাকা সিআরপিএফ জওয়ানদের নাম ও ব্যাজ নম্বরও জানতে চাওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে প্রতীকের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ এবং আবাসনের রেজিস্টার। সেগুলি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা কখন ঢুকেছেন, কত ক্ষণ ছিলেন— সব কিছুই মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শনিবার থেকে শুরু হয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহের কাজ। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী, পরিচারিকা এবং আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রয়োজনে প্রতীকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক) বর্তমানে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই অভিযানের পরেই ইডি ও সিআরপিএফের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার তরফে দু’টি পৃথক থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে— একটি শেক্সপিয়র সরণি থানায়, অন্যটি সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায়। অভিযোগে অনধিকার প্রবেশ, অনুমতি ছাড়া নথি নিয়ে যাওয়া, ভয় দেখানো এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারার উল্লেখ রয়েছে। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা জানিয়েছেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রতীকের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে রাখা থাকে।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তথ্য সংগ্রহে নেমেছে পুলিশ। কে কোথা থেকে এল, কী ভাবে অভিযান চলল— প্রতিটি খুঁটিনাটি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযানে অংশ নেওয়া সকলের পরিচয় স্পষ্ট না হলে ঘটনার পূর্ণ ছবি পরিষ্কার হবে না। তাই ইডি আধিকারিক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান— কারও পরিচয়ই এ বার অজানা থাকতে চাইছে না পুলিশ।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি