ইউপিএসসি ISS পরীক্ষায় বাংলার জয়জয়কার: সিঞ্চন ও বিল্টুর সাফল্যের মন্ত্র ও টিপস

ইউপিএসসি ISS পরীক্ষায় বাংলার জয়জয়কার ইউপিএসসি’র ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিস (ISS) পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাংলার দুই কৃতী সিঞ্চন স্নিগ্ধ অধিকারী এবং বিল্টু মাজি গোটা দেশের সামনে বাংলার…

December 17, 2024
1 min read

ইউপিএসসি ISS পরীক্ষায় বাংলার জয়জয়কার

ইউপিএসসি’র ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল সার্ভিস (ISS) পরীক্ষায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে বাংলার দুই কৃতী সিঞ্চন স্নিগ্ধ অধিকারী এবং বিল্টু মাজি গোটা দেশের সামনে বাংলার নাম উজ্জ্বল করলেন। এই সাফল্যে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় এই অসাধারণ কৃতিত্ব কীভাবে অর্জন করলেন সিঞ্চন ও বিল্টু? কী তাদের সাফল্যের মন্ত্র ও পরিশ্রমের গল্প?

সিঞ্চন স্নিগ্ধ অধিকারীর সাফল্যের পথ


পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বাসিন্দা সিঞ্চন স্নিগ্ধ অধিকারী এবারের ইউপিএসসি ISS পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। আসানসোলের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রাক্তনী সিঞ্চন, উচ্চ মাধ্যমিকের পর কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-এ স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সিঞ্চন জানিয়েছেন, প্রথমবার পরীক্ষায় বসে সফল না হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি বলেন, “প্রথমবারের ভুল থেকেই শিক্ষা নিয়েছি। দ্বিতীয়বার আরও ভালোভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলাম। সাফল্য কখনো সহজে আসে না, কিন্তু কঠোর পরিশ্রমের ফল সবসময় মধুর।”

সিঞ্চন একটি মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে। তাঁর বাবা প্রদীপ অধিকারী আসানসোল মাইন্স বোর্ড অব হেলথে কর্মরত এবং মা সুজাতাদেবী গৃহবধূ। সিঞ্চন জানান, তাঁর এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তাঁর বাবা-মাকে। পরিবারের সমর্থন এবং নিজের আত্মবিশ্বাসই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।

বিল্টু মাজির অদম্য লড়াই


দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের পাণ্ডুক গ্রামের বিল্টু মাজি। একজন কৃষকের ছেলে বিল্টুর এই সাফল্য প্রত্যেক সংগ্রামী ছাত্রছাত্রীর জন্য অনুপ্রেরণা। রাশিবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা বিল্টু প্রথমবার ইউপিএসসি ISS পরীক্ষায় বসেন ২০২১ সালে। কিন্তু তখন সাফল্য ধরা দেয়নি।

এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে আবারও পরীক্ষা দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। তবে হাল ছাড়েননি বিল্টু। কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের ফলে অবশেষে ২০২৪ সালে দীর্ঘ ৩ বছরের চেষ্টার পর তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিল্টু বলেন, “আমি নিয়মিত ভাগবত গীতা শুনতাম। গীতার কর্মযোগ এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রাকটিক্যাল বেদান্ত আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছে।”

তাদের সাফল্যের মন্ত্র ও টিপস


সিঞ্চন এবং বিল্টু উভয়েই জানিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং মানসিক শক্তিই সাফল্যের মূলমন্ত্র। সিঞ্চন বলেন, “প্রথমবার ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। বরং নিজের ভুলগুলোকে বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয়বার আরও ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।”

অন্যদিকে বিল্টু মনে করেন, মানসিক দৃঢ়তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের চেষ্টায় মাঝে মাঝে হতাশা আসবে। কিন্তু নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে। প্রত্যেক ব্যর্থতা সাফল্যের পথে একটি ধাপ মাত্র।”

পরিবার ও সমাজের ভূমিকা


সিঞ্চন এবং বিল্টু উভয়েই তাদের সাফল্যের জন্য পরিবারের ভূমিকাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। সিঞ্চনের বাবা-মা সবসময় তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন, আর বিল্টুর বাবা কৃষিকাজের পাশাপাশি ছেলেকে পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।

বাংলার গর্ব


সিঞ্চন এবং বিল্টুর এই অসাধারণ সাফল্যে আজ বাংলার মানুষ গর্বিত। তাদের লড়াই এবং সাফল্যের গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন যে সাফল্যের সিঁড়ি, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন এই দুই তরুণ।

তাদের এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকলে সাফল্য আসবেই। বাংলার এই দুই কৃতীকে আবারও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *