ইউপিআইয়ে ২ হাজারের বেশি লেনদেনে নতুন মাশুল, গ্রাহকের পকেট থেকে সরাসরি টাকা কাটবে কি? জেনে নিন নিয়ম

ইউপিআইয়ে ২ হাজারের বেশি লেনদেনে নতুন মাশুল! ইউপিআই ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে ১৫ অক্টোবর থেকে। নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে চালু হচ্ছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর। তবে নতুন নিয়মের…

September 16, 2026
1 min read

ইউপিআইয়ে ২ হাজারের বেশি লেনদেনে নতুন মাশুল!

ইউপিআই ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে ১৫ অক্টোবর থেকে। নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেনে চালু হচ্ছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর। তবে নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—এই মাশুল সরাসরি সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হবে না। ২,০০০ টাকা পর্যন্ত সাধারণ পি২এম বা গ্রাহক থেকে ব্যবসায়ীর ইউপিআই লেনদেনও আগের মতোই মাশুলমুক্ত থাকবে।

২,০০০ টাকার বেশি হলে কী হবে?

নতুন কাঠামোয় নির্দিষ্ট সরাসরি ইউপিআই মার্চেন্ট পেমেন্টে ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণত ০.৪ শতাংশ এমডিআর ধার্য হবে। এই টাকা দেবেন বিক্রেতা বা মার্চেন্টের অ্যাকোয়ারিং ব্যাঙ্ককে। তবে এর সর্বোচ্চ সীমাও রয়েছে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনে সর্বোচ্চ এমডিআর হবে ৩০০ টাকা।

হিসাবটা সহজ। ৩,০০০ টাকার পেমেন্টে এমডিআর ১২ টাকা, ১০,০০০ টাকায় ৪০ টাকা এবং ৫০,০০০ টাকায় ২০০ টাকা। ৭৫,০০০ টাকার ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা হবে। ১ লক্ষ টাকার পেমেন্টেও ৪০০ টাকা নয়, সর্বোচ্চ ৩০০ টাকাই প্রযোজ্য হবে।

তবে গ্রাহককে ৩,০০০ টাকার পেমেন্টের জন্য ৩,০১২ টাকা দিতে হবে না। নির্ধারিত বিল ৩,০০০ টাকাই থাকবে এবং এমডিআর বহন করার কথা মার্চেন্টের।

সব ব্যবসায় কি ০.৪ শতাংশ?

না। এখানেই নতুন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবায় ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের জন্য ০.৪ শতাংশের বদলে ৫ টাকার নির্দিষ্ট মাশুল রাখা হয়েছে। রেল পরিষেবা, টেলিযোগাযোগ, বিমা, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, জল এবং পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা গ্যাসের মতো নির্দিষ্ট পেমেন্ট এই তালিকায় রয়েছে।

পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত কিছু লেনদেনে আবার ০.০২ শতাংশ এমডিআর প্রযোজ্য হবে, যার সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা। ফলে ইউপিআই মানেই সব ধরনের বড় লেনদেনে একই হারে মাশুল—এমনটা নয়।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য কী নিয়ম?

ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। যোগ্য পি২পিএম মার্চেন্টরা মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট গ্রহণ করলে ‘জ়িরো এমডিআর’-এর সুবিধা পাবেন। কোনও ছোট দোকানি এক জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২,৫০০ টাকা নিলেই যে তাঁকে এমডিআর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়।

তবে কোনও পি২পিএম বিক্রেতা টানা তিন মাস ধরে মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্ট গ্রহণ করলে তাঁর শ্রেণিবিভাগ বদলাতে পারে। নতুন কাঠামোর জন্য যোগ্য ছোট ব্যবসায়ীদের পুরনো কিউআর কোড বদলানোরও প্রয়োজন নেই।

গ্রাহকের জন্য কোথায় ‘ফাঁক’?

নিয়ম অনুযায়ী, মার্চেন্ট সরাসরি ‘ইউপিআই ফি’ বলে গ্রাহকের কাছ থেকে এমডিআর নিতে পারবেন না। অর্থাৎ ৩,০০০ টাকার পণ্যের জন্য ইউপিআই ব্যবহার করায় আলাদা করে ১২ টাকা নেওয়ার কথা নয়।

কিন্তু এখানেই একটি অর্থনৈতিক প্রশ্ন থাকছে। কোনও ব্যবসায়ী চাইলে তাঁর সামগ্রিক খরচের কথা বিবেচনা করে পণ্যের সাধারণ দাম পরিবর্তন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নগদ, কার্ড বা ইউপিআই—সব ধরনের ক্রেতাই নতুন দাম দিতে পারেন। সেটি সরাসরি ‘ইউপিআই সারচার্জ’ হবে না। ফলে নতুন মাশুলের সরাসরি বোঝা মার্চেন্টের হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর অর্থনৈতিক প্রভাব গ্রাহকের উপর পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও বাজারের পরিস্থিতির উপর।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে টাকা পাঠালে?

পাশাপাশি স্বস্তির খবর রয়েছে। এক জন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে এই নতুন এমডিআর প্রযোজ্য হবে না। বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা নিজের অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসায়িক মাশুল বসবে না।

সব মিলিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে ইউপিআইয়ের প্রতিটি লেনদেনে নতুন চার্জ বসছে—এমনটা নয়। মূল পরিবর্তন নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেনে। সাধারণ গ্রাহকের দৈনন্দিন ছোটখাটো পেমেন্ট আগের মতোই মাশুলমুক্ত থাকবে। বড় ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে শুরুতে খরচটি মার্চেন্টের উপর পড়লেও, ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয় কী ভাবে সামলান, সেটিই হবে নজর রাখার বিষয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *