ইউনূস সরকারের সময় জঙ্গিদের তৎপরতা
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে অসমে জেহাদি সংগঠনের কার্যকলাপ বেড়েছে। এই প্রেক্ষিতে অসম পুলিশ, এনআইএ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে জেহাদি দমন অভিযানে সক্রিয় হয়েছে।
জেহাদি দমন অভিযানের প্রেক্ষাপট
হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, “ঢাকায় সরকারের পালাবদলের পর জেহাদিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে অসম সরকার ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।” তিনি জানান, অসম পুলিশের এসটিএফ ‘অপারেশন প্রঘাত’ অভিযানের মাধ্যমে ২৩ জন জেহাদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও সহযোগিতা করছে।
অসমের পাশাপাশি বাংলা এবং কেরল থেকেও জেহাদিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অসমে জেহাদিদের অস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার হয়েছে, যা তাদের সংগঠিত কার্যকলাপের প্রমাণ।
বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ: হিন্দু বনাম মুসলিম প্রসঙ্গ
হিমন্ত দাবি করেন, বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হলেও তাঁরা দেশ ছেড়ে পালানোর পথে যাননি। বরং তাঁরা সংযম এবং পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা পালানোর, তাঁরা বহু আগেই ভারতে চলে এসেছেন। এখন যাঁরা বাংলাদেশে আছেন, তাঁরা সেই দেশকেই নিজেদের বাড়ি মনে করেন এবং সেখানেই থাকতে চান।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মুসলিমদের অনুপ্রবেশের হার বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতের পতন। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন ২০-৩০ জন মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছেন অসম এবং ত্রিপুরার সীমান্তে। গত পাঁচ মাসে সহস্রাধিক মুসলিম অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেও একজনও হিন্দু ধরা পড়েননি।
পুশ ব্যাক প্রক্রিয়া ও সীমান্ত পরিস্থিতি
হিমন্ত জানান, অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তে আটক করার পর গ্রেফতার না করে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই না সীমান্তে নতুন করে জটিলতা তৈরি হোক। তাই আটক ব্যক্তিদের গ্রেফতার না করে সরাসরি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।”
অনুপ্রবেশে মদত: ভারতীয় পোশাক শিল্পের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমিকদের ব্যবহার করে ভারতের কিছু পোশাক কারখানা অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে। সস্তা শ্রমিক পাওয়ার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
হিমন্ত বলেন, “তদন্তে দেখা গেছে, ভারতের একটি অংশের পোশাক কারখানা অনুপ্রবেশকারীদের কাজে লাগানোর জন্য অর্থায়ন করছে। বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উত্তর-পূর্ব পরিষদের বৈঠকে তুলেছি। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
কেন্দ্রের প্রতি আবেদন
হিমন্তবিশ্ব শর্মা কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন, যেসব কারখানা অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি বলেন, “এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করা না গেলে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।”
উপসংহার
হিমন্তবিশ্ব শর্মার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ এবং জেহাদি কার্যকলাপের প্রসঙ্গটি অসমের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। রাজ্য পুলিশ, এনআইএ, এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতীয় শিল্পের অনৈতিক কার্যকলাপ রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
আরএসএস: মন্দির-মসজিদ বিতর্কে ভাগবতের অবস্থানকে সমর্থন হিন্দি মুখপত্রের