ইংল্যান্ড সিরিজ থেকে বাদ বাবর আজম: পাকিস্তানের সাহসী সিদ্ধান্ত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে। শুধু বাবরই নন, চোটের কারণে সিরিজ থেকে নাম তুলে নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি এবং নাসিম…

October 15, 2024
1 min read

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে। শুধু বাবরই নন, চোটের কারণে সিরিজ থেকে নাম তুলে নিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি এবং নাসিম শাহও। ফলে পাকিস্তানের দল এই সিরিজে অনেকটাই শক্তি হারিয়েছে। তবে এই সাহসী সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাবর আজম বাদ পড়া: প্রথমবারের মতো

বাবর আজম, যিনি ইতিমধ্যে ৫৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, তাঁর দীর্ঘ পেশাদার জীবনে এই প্রথম টেস্ট সিরিজ থেকে বাদ পড়লেন। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবরকে ‘বিশ্রাম’ দেওয়া হয়েছে, তবে এটি বাবরের জন্য প্রথমবারের মতো এমন অভিজ্ঞতা। বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, “বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেসের কথা বিবেচনা করে এবং ২০২৪-২৫ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মরসুমের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবর আজম, নাসিম শাহ, শাহিন আফ্রিদি এবং সরফরাজ আহমেদকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আবরার আহমেদকেও এই সিরিজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাবর আজম

শাহিন ও নাসিমের নাম প্রত্যাহার

শাহিন আফ্রিদি এবং নাসিম শাহ চোটের কারণে নিজেদের নাম সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো থেকে প্রত্যাহার করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, দু’জনেই বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাঁদের সিরিজের বাকি দুটি টেস্ট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এমনকি ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁদের বাদ দেওয়া হতে পারে, তাই আগেই নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

বাবরের ফর্মের পতন

গত বছরের শুরু থেকেই বাবর আজমের ফর্মে বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত ১৮টি ইনিংসে একটিও অর্ধশতরান করতে পারেননি তিনি, আর তাঁর গড় নেমে এসেছে মাত্র ২১-এ। এটি তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে ফর্মের উন্নতি না হলে হয়তো তাঁর জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শাহিন আফ্রিদিও ফর্মের ক্ষেত্রে সমস্যায় ভুগছেন। গত মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট থেকেও বাদ পড়েছিলেন তিনি।

কোচ এবং অধিনায়কের মতানৈক্য

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান দলের ভেতরে কিছু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, অধিনায়ক শান মাসুদ এবং কোচ জেসন গিলেসপি চাননি বাবরকে বাদ দিতে। তাঁরা বাবরের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছিলেন। তবে নতুন নির্বাচক কমিটি তাঁদের মতামতকে আমলে নেয়নি। এমনকি, বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে হওয়া বৈঠকেও অধিনায়ক ও কোচের উপস্থিতি ছিল না।

নতুন মুখ এবং নির্বাচনের ধরন

বাবর, শাহিন এবং নাসিমের জায়গায় নতুন মুখদের দলে আনা হয়েছে। জাতীয় দলে এখনও অভিষেক না হওয়া হাসিবুল্লাহ এবং মেহরান মুমতাজকে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সুযোগ পেয়েছেন জোরে বোলার মহম্মদ আলি এবং অফস্পিনার সাজিদ খানও। নির্বাচকেরা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়েছেন, যা পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের ভাবনা

পাকিস্তান দল এখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বাবরের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া হয়তো একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যাতে তাঁরা আগামী বছর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু এই সিরিজে তাঁদের অনুপস্থিতি যে পাকিস্তানকে কিছুটা দুর্বল করে তুলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

4o

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *